চার মাসের শিশু কন্যাটিকে শুইয়ে রেখে তার ‘পুজো’ চলছিল। বলি দেওয়া হত একটু পরেই। ঠিক এমন সময়েই এক স্বঘোষিত তান্ত্রিকের আস্তানায় ঢুকে ওই শিশুকে উদ্ধার করল দিল্লি পুলিশ। গ্রেফতার করা হল তান্ত্রিক আর তার দুই সাগরেদকে। সম্প্রতি এই ঘটনা ঘটেছে খাস রাজধানীর উপকণ্ঠে গাজিয়াবাদের লুনি এলাকায়।

পুলিশের জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে ধৃত তান্ত্রিক ইলিয়াস ওরফে ‘সুফি বাবা’। তার দাবি, ঈশ্বর নাকি তাকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেছিল, এই বলি দিলে সে বিশেষ ডাইনি বিদ্যার অধিকারী হবে। তাই বলি দেওয়ার জন্য অনেক দিন ধরেই শিশু কন্যা জোগাড়ের  চেষ্টা চালাচ্ছিল। আসিফ নামের এক বন্ধুকে সে মোটা টাকার টোপ দেয়। ১০ টাকা অগ্রিমও দেয়। এবং বলে যে বলির জন্য মেয়ে পেয়ে গেলেই আরও ৩০ হাজার টাকা দেবে।

তিন মাস ধরে আসিফ বলির জন্য কোন মেয়ে খুঁজে দিতে পারেনি। ক্ষিপ্ত ইলিয়াস তার ওপর চড়াও হয়। কিছুটা ভয় পেয়েই আসিফ উত্তরপূর্ব দিল্লির খজুরি খাসে এক ভাই-এর বাড়ি গিয়ে তার চার মাসের মেয়েকে চুরি করে নিয়ে যায় ইলিয়াসের কাছে। হারানো মেয়ের খোঁজে  বাবা, মা থানায় যান। উত্তর দিল্লির ডিসিপি একে সিংলা নিখোঁজ চার মাসের মেয়েটিকে খোঁজার জন্য যোগেন্দ্র খোখারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করেন।

প্রথমে পুলিশ আসিফের মুস্তাফাবাদের বাড়িতে যায়। যদিও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। তখন পুলিশ আসিফকে খোঁজার জন্য ও যাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে তাদের ট্র্যাক করতে শুরু করে। ডিসিপি সিংলা জানিয়েছেন, “আসিফকে ট্র্যাক করে ধরা হলে সে জানায় যে মেয়েটিকে সে ইলিয়াস ও দিলশাদ নামের দুজনের কাছে বিক্রি করেছে। ইলিয়াসদের ধরার জন্য পুলিশ গাজিয়াবাদের লুনিতে তাদের গোপন ডেরায় যায়। সেখান থেকেই বাকি দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।’’ পুলিশ জানিয়েছে, “মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার খবর আসার ছয় ঘণ্টার মধ্যে তাকে উদ্ধার করা গিয়েছে”।