সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট করায় বিজেপির যুব নেত্রী প্রিয়ঙ্কা শর্মাকে গ্রেফতার করেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। আজ সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিক প্রশান্ত কানোজিয়ার মামলার শুনানির সময়ে উঠে এল সেই প্রসঙ্গ। সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে পোস্ট করায় সম্প্রতি জেলে যেতে হয় ওই সাংবাদিককে। তবে গ্রেফতারির এই দু’টি মামলার মধ্যে ফারাক রয়েছে বলেই শীর্ষ আদালত মনে করছে।

প্রশান্তের মামলার শুনানির সময়ে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অজয় রাস্তোগি বলেন, ‘‘প্রিয়ঙ্কা শর্মার মামলায় আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখেছি। সেগুলি মানহানিকর বলে মনে হয়েছে আমাদের। সে জন্যই অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।’’ তবে কানোজিয়াকে জামিন দিতে গিয়ে আদালত বলেছে, ‘‘নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার অলঙ্ঘনীয়, এর সঙ্গে আপস চলে না।’’ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশান্তের পোস্ট নিয়ে অবশ্য  শীর্ষ আদালত মতামত দেয়নি।

কানোজিয়া-সহ আরও কয়েক জন সাংবাদিককে যোগীর পুলিশ গ্রেফতার করায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে রাজনৈতিক স্তরে। মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী টুইট করে বলেছেন, সাংবাদিকদের গ্রেফতার করে আদিত্যনাথ ‘বোকার মতো আচরণ’ করছেন। রাহুলের মন্তব্য, ‘‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে খবর লিখতে যে সব সাংবাদিককে বাধ্য করেছে সঙ্ঘ পরিবার, তাঁদের জেলে যেতে হলে অধিকাংশ সংবাদপত্র ও চ্যানেল কর্মসঙ্কটে ভুগবে।’’ ধৃত সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি তুলেছেন তিনি। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরাও এ নিয়ে যোগী সরকারকে আক্রমণ করেছেন। রাহুলের বক্তব্য রিটুইট করে প্রিয়ঙ্কা লিখেছেন, ‘‘মানুষের সমস্যাগুলি নিয়ে কাজ না করে উত্তরপ্রদেশ সরকার সাংবাদিক ও কৃষকদের উপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে। ভয় দেখানো হচ্ছে তাঁদের।’’ সোশ্যাল মিডিয়ায় আদিত্যনাথ সম্পর্কে মন্তব্যের জেরে কয়েক দিন আগে গ্রেফতার করা হয় নয়ডার সাংবাদিক প্রশান্তকে। ওই ঘটনায় পরে আরও কয়েক জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে যোগীর পুলিশ।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।