রাফাল-নাটকে জুড়ল সিনেমা।

কোনও অভিজ্ঞতা ছাড়া শুধু রাফালের বরাত পাওয়া নয়। অম্বানী গোষ্ঠীর সঙ্গে ফ্রান্সের ‘সম্পর্ক’ কতটা গভীরে, তা বোঝাতে আজ কৈলাস যাত্রার আগে আরও একটি বোমা ফাটিয়ে গেলেন রাহুল গাঁধী। জানালেন, ফরাসি একটি সংস্থার সঙ্গে সিনেমা বানানোর চুক্তিও করেছে  অনিল অম্বানীর সংস্থা।

সময়টা ২০১৬-র জানুয়ারি। প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। সে দিনই তাঁর সঙ্গে ৩৬টি রাফাল বিমান কেনা নিয়ে সমঝোতাপত্রে সই করেন নরেন্দ্র মোদী। যে চুক্তির অঙ্গ হিসাবে অনিল অম্বানীর সংস্থা ‘অফ-সেট’ বরাত পায়। আর এর ঠিক দু’দিন আগে, অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি ওলাঁদের বান্ধবীর সংস্থার সঙ্গে একটি ফরাসি সিনেমা প্রযোজনার ব্যাপারে চুক্তি হয় অনিল অম্বানীর সংস্থার। এই বিষয়টি তুলে এনেই রাহুল আজ টুইট করে বলেন, ‘‘এটা আন্তর্জাতিক দুর্নীতি। রাফাল সত্যিই খুব দ্রুত। অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে কয়েকটা বড়সড় ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো বোমাও ফেলবে। মোদীজি, অনিলকে (অম্বানী) দয়া করে বলুন, ফ্রান্সেও বড় সমস্যা হচ্ছে।’’

কালই রাফালের সঙ্গে নোটবন্দির ‘দুর্নীতি’কে জুড়ে তোপ দেগেছেন রাহুল। আজ দিল্লি ছাড়ার আগেও দলের নেতাদের বলে গিয়েছেন, এ নিয়ে লাগাতার আন্দোলন চালাতে। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই আজ ত্রিপুরায় এসেছিলেন সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সুস্মিতা দেব। আগরতলায় সাংবাদিক বৈঠক করে ‘দুর্নীতির ভাগীদার’ বলে নিশানা করেন মোদীকে। আর দিল্লিতে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘‘এ তো কেকের উপরে চেরি! যে অনিল অম্বানীর সংস্থা ফরাসি প্রেসিডেন্টের বান্ধবীর সংস্থার সঙ্গে সিনেমা-চুক্তি করছেন। দু’দিনের মধ্যে সেই অম্বানীকেই রাফালে বরাত দেওয়া হচ্ছে। আর ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী, নিতিন গডকড়ী এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সে বছরেই নাগপুরে অম্বানীদের প্রতিরক্ষা সংস্থার ভিত্তি স্থাপন হচ্ছে।’’

রাফাল ধাক্কা সামলাতে অরুণ জেটলিকে আসরে নামিয়ে প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চাইছেন ইউপিএ-র থেকে সস্তায় রাফাল কেনা হয়েছে। আর অম্বানীকে বরাত দেওয়ার পিছনে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। সে বরাত দিয়েছে ফরাসি সংস্থা দাসো। কিন্তু কংগ্রেস বলছে, সে তো নিয়ম দেখাচ্ছেন জেটলি। খাতায়-কলমে সরকারের ভূমিকা নেই, কিন্তু ফ্রান্সকে মোদীই বলে দিয়েছিলেন অম্বানীকেই বরাত দিতে। আর সেই কারণেই অম্বানীকে নিয়ে ফ্রান্স গিয়েছিলেন মোদী। সেই সমঝোতার ক’দিন আগেই অম্বানীর নতুন সংস্থা তৈরি হয়। আর সেই অম্বানীই সিনেমা বানাচ্ছেন। যোগসূত্র তো স্পষ্ট।

বিজেপি যদিও রাফাল-সিনেমার এই যোগসূত্র মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, ওই সিনেমা-চুক্তির সঙ্গে ওলাঁদের সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু রাফালের বরাত দিয়েছে যে সংস্থা, সেটি ফ্রান্সের বিরোধী দলের নেতার অধীনে।