২০১৫-র ক্রিকেট বিশ্বকাপে ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপন খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। প্রকাশ্যে না হলেও লখনউয়ে যেন পকেটমার-মোবাইল চোরেরা মনে মনে সেই গানই গেয়ে উঠল। রাহুল-প্রিয়ঙ্কার রোড শোয়ের প্রবল ভিড়কেই মোবাইল চুরির তীর্থক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল চোরেরা। ভিড়-হুড়োহুড়ির এমন ‘মওকা’য় ৫০টি মোবাইল ফোন হাতসাফাই করেছে ‘কীর্তিমান’রা।

দামি-কমদামি মোবাইল হারিয়ে অনেক কংগ্রেস নেতাই পুলিশের দ্বারস্থ। কিন্তু সেখানে গিয়ে আবার নানা ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপও হজম করতে হয়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস নেতাদের। তাই থানার সামনে ধর্নায় বসে পড়েন তাঁরা। শেষমেষ অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ অফিসাররা। সরোজিনী নগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার ত্রিলোকী সিংহ বলেন, ‘‘একটি অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগ অনুসারে তদন্ত করা হবে।’’

রাজনীতিতে প্রিয়ঙ্কার অভিষেকের ঘোষণা আগেই হয়েছিল। সোমবার ছিল আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্তরপ্রদেশের মাটিতে পা রাখার দিন। বিমানবন্দর থেকে কংগ্রেসের কার্যালয় পর্যন্ত দীর্ঘ পথ রোড শোয়ের আয়োজন করে কংগ্রেস। সেই রোড শোতে কংগ্রেস কর্মীদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। তার জেরে বিপুল ভিড় হয় রোড শোয়ে। আর সেই মোক্ষম সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে পকেটমার, মোবাইল চোরেরা। চোরেদের ‘শিকার’ থেকে বাদ পড়েননি অ্যাসিস্ট্যান্ট সিটি ম্যাজিস্ট্রেট থেকে কংগ্রেসের কনৌজ জেলার মুখপাত্র জিসান হায়দার।

আরও পড়ুন: ‘বিজেপি কি ভয় পেয়েছে?’ লখনউ বিমানবন্দরে বাধা পেয়ে প্রশ্ন অখিলেশের

সঙ্কট আরও বেড়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মোবাইল হারানো কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা টের পেয়েছেন অনেকটা দূরে যাওয়ার পর। অনেকে টের পেয়েছেন রোড শো শেষ হওয়ার পরে। জিসান বলেন, ‘‘আমরা শ্রীগরনগর মেট্রো স্টেশনের কাছ থেকে রোড শোতে যোগ দিই। বার্লিংটন ক্রসিংয়ে গিয়ে যখন ভিড়টা থামে, তখনই টের পাই পকেটে মোবাইল নেই। পকেটের মানিব্যাগও উধাও!’’

আরও পড়ুন: রাফাল চুক্তিতে অম্বানীদের দালালের ভূমিকা পালন করেছেন মোদী, ফের আক্রমণ রাহুলের

এর মধ্যে আবার এক ব্যক্তিকে মোবাইল চোর সন্দেহে ধরেও ফেলেন কংগ্রেস কর্মীরা। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশ তার কাছে কিছুই না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেয়।

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)