বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি আকিল কুরেশিকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের চাপের সামনে মাথা নত করল কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। সেই বিষয়েই আজ সুপ্রিম কোর্ট বলল, বিচারপতিদের নিয়োগ ও বদলি বিচারব্যবস্থার একেবারে শিকড়ে রয়েছে। তাতে আদালতের পর্যালোচনাতেও বাধানিষেধ রয়েছে। এতে হস্তক্ষেপ করা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের পক্ষে মঙ্গলকর নয়।

বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি কুরেশিকে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ বিচারপতিদের কলেজিয়াম। কিন্তু আইন মন্ত্রক তাতে আপত্তি তোলে। সেই আপত্তি মেনে নিয়ে কলেজিয়াম তাঁকে ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। বিচারপতি কুরেশি আগে গুজরাত হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। সেই সময় তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সোহরাবুদ্দিন শেখ ভুয়ো সংঘর্ষ মামলায় দু’দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গুজরাত হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট অ্যাসোসিয়েশন সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে দাবি তুলেছে, আদালত বিচারপতি কুরেশিকে মধ্যপ্রদেশে বদলির আগের সুপারিশ কার্যকর করার নির্দেশ দিক। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত মামলা ঝুলে থাকবে। আগে বিচারপতি কুরেশিকে ত্রিপুরা হাইকোর্টে নিয়োগ করা হোক। তার পরেই এ বিষয়ে শুনানি হবে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি আজকের নির্দেশে বিচারপতিদের বদলি নিয়েও মন্তব্য করেন।

সরকারি সূত্রের খবর, আইন মন্ত্রক কলেজিয়ামকে জানায়, বিচারপতি কুরেশিকে কোনও হাইকোর্টেরই বিচারপতি করা ঠিক নয়। তাঁর সাম্প্রদায়িক ঝোঁক রয়েছে। যুক্তি খাড়া করতে গুজরাতের নরোড়া পাটিয়া হত্যাকাণ্ড, ওয়াকফ বোর্ড সংক্রান্ত মামলা তুলে ধরেছে আইন মন্ত্রক। তবে ত্রিপুরার মতো ছোট হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করতে আইন মন্ত্রক আপত্তি তুলবে না বলেই সূত্রের খবর।