• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

করোনা আক্রান্ত মধ্যপ্রদেশের সাংবাদিক, গিয়েছিলেন কমল নাথের সাংবাদিক সম্মেলনেও

Coronavirus
প্রতীকী ছবি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এ বার সাংবাদিক। ভোপালের ওই সাংবাদিক কয়েক দিন আগে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মু্খ্যমন্ত্রী কমল নাথের সাংবাদিক সম্মেলনেও গিয়েছিলেন। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভোপালের গোটা সাংবাদিক মহলেই। তাঁর বছর ছাব্বিশের মেয়ে সম্প্রতি লন্ডন থেকে ফিরেছেন। আগেই তাঁর করোনা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। বাবা-মেয়ে দু’জনেই ভোপালের এমস হাসপাতালে ভর্তি। তবে ওই সাংবাদিকের স্ত্রী, ছেলে ও পরিচারিকার কোভিড-১৯ নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। অর্থাৎ তাঁদের সংক্রমণ হয়নি। পাশাপাশি ওই সাংবাদিক যাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের খুঁজে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

এই খবর চাউর হতেই সাংবাদিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোপাল জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি দীনেশ গুপ্ত বলেছেন, ‘‘এটা দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ হয়েছে। কেউ বিদেশ থেকে এলে তাঁর বাড়িতে কী সতর্কতা নিতে হবে, কেন্দ্রের তরফে বার বার নির্দেশিকা দেওয়া হচ্ছে। তার পরেও ওই সাংবাদিক এত জায়গায় গিয়েছেন!’’ এই ধরনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের আগেই হোম আইসোলেশন বা কোয়রান্টিনে থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্য দিকে একটি সর্বভারতীয় দৈনিকের ভোপালের সংবাদদাতা তথা বর্ষীয়ান সাংবাদিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস বিধায়ক ও নেতারা ছিলেন, সরকারি আধিকারিকরা ছিলেন। প্রচুর সাংবাদিকও যোগ দিয়েছিলেন সেখানে। আমিও ছিলাম। আমরা সবাই এখন আতঙ্কে রয়েছি। মেয়ে বিদেশ থেকে ফিরেছেন। ওই সাংবাদিকের বৈঠকে যাওয়া উচিত হয়নি।’’

আরও পড়ুন: কান ধরে ওঠবোস, লাঠিপেটা করে ‘লকডাউন’ করল পুলিশ, বাহবা আমজনতার

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ওই সাংবাদিকের মেয়ে আইনে স্নাতকোত্তর পড়ছেন। সম্প্রতি লন্ডনে গিয়েছিলেন তিনি। সপ্তাহখানেক আগে ভোপালে ফিরেছেন। তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ২০ মার্চ রিপোর্টে তাঁর কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। এর পর ওই সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও পরিচারিকা-সহ সন্দেহজনকদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সাংবাদিক বাদে বাকি সবার রিপোর্টই নেগেটিভ। ভোপালের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুধীর দেহারিয়া বলেন, ‘‘ওই সাংবাদিক ও তাঁর মেয়ের সংস্পর্শে যাঁরা যাঁরা এসেছিলেন, সবাইকেই হোম আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে। ছ’-সাত দিনের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশির উপসর্গ হলেই স্বাস্থ্য দফতরের কন্ট্রোলরুমে খবর দিতে বলা হয়েছে।’’

আরও পড়ুন: লকডাউনে অ্যাম্বুল্যান্স মেলেনি, পুলিশভ্যানেই সন্তানের জন্ম সোনারপুরে

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের হিসেবে বুধবার পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৪। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের আপ্ত সহায়কের কোভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে বলে একটি খবর মিলেছিল। সে কারণে কমল নাথও ‘সেল্ফ কোয়রান্টিন’-এ যেতে পারেন, এমন জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের মধ্যপ্রদেশের মুখপাত্র নরেন্দ্র সালুজা জানিয়ে দিয়েছেন, ওই খবর ভিত্তিহীন।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন