এমন দৃশ্য কমই তৈরি হয়। মঙ্গলবার লোকসভায় গাঁধী পরিবারের দুই পুত্রবধূ, সনিয়া ও মেনকা গাঁধী পরপর লোকসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিলেন। এবং পুরনো বিবাদ ভুলে রেখে হাত জোড় করে সৌজন্য বিনিময়ও হল। 

প্রথমে সনিয়া গাঁধী। রায়বরেলীর সাংসদ হিসেবে সনিয়া যখন শপথ নিতে আসছেন, তখন বিজেপি-র বেঞ্চ থেকে ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘জয় শ্রী রাম’-এর স্লোগান উঠছে। সনিয়া হিন্দিতে শপথ নিলেন। কটাক্ষ উড়ে এল বিজেপির বেঞ্চ থেকে, ‘হিন্দিতে শপথ নেওয়ার জন্য অভিনন্দন’। সনিয়া নিজের আসনে ফিরতেই লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল স্নেহলতা শ্রীবাস্তব শপথ নিতে ডাকলেন মেনকাকে। বিজেপি বেঞ্চে এ বার হাসির রব উঠল।

ঘটনা পরম্পরা দেখে মুখের হাসি চেপে রাখেননি সুলতানপুর থেকে জিতে আসা মেনকা। হাসতেই হাসতেই শপথ নিতে এলেন। শপথবাক্য পাঠ করতে গিয়ে খেয়াল হয়েছে, চশমা ভুলে এসেছেন নিজের আসনে। আবার চশমা নিয়ে ফিরে এসে শপথ বাক্য পাঠ করলেন মেনকা। বড় জা-এর মতো, হিন্দিতেই।

একটা ফারাক অবশ্য হয়েছে। মেনকা শপথ নিয়েছেন ‘ঈশ্বরের নামে’। আর সনিয়া শপথ নিয়েছেন ‘সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা’ করে। ট্রেজারি বেঞ্চের সামনে শপথগ্রহণের জন্য মাইক্রোফোন রাখা ছিল। শপথ নিয়ে স্পিকারের আসনে পিছন দিয়ে ঘুরে বিরোধীদের আসনের সামনে দিয়ে সাংসদদের ফিরতে হচ্ছিল। মেনকা সে দিকে যেতেই সবার নজর ঘুরে যায়। দুই জা-এর কি শুভেচ্ছা বিনিময় হল? কথাবার্তা হল? কথাবার্তা না হলেও মেনকা হাত জোড় করেন সনিয়ার দিকে তাকিয়ে। সনিয়া ও তাঁর পাশে বসা রাহুল গাঁধীও হাত জোড় করে নমস্কার ফিরিয়ে দেন। 

সনিয়া আজ যখন শপথ নিয়েছেন, তখন বিরোধী বেঞ্চের প্রথম সারিতে বসে রাহুলকে মায়ের শপথগ্রহণের ছবি ক্যামেরাবন্দি করতে দেখা গিয়েছে। মেনকার ছেলে, পিলভিটের সাংসদ বরুণ গাঁধীও আজ শপথ নিয়েছেন। তাঁকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাহুল। উৎসুক দৃষ্টিতে গাঁধী পরিবারের সদস্যদের এই ‘সৌজন্য বিনিময়’-এর সাক্ষী থেকেছেন বাকি সাংসদেরা।