রাস্তার ধারে বেঞ্চে বসে এক খুদে। পরম স্নেহে তাকে বাটি থেকে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন এক জওয়ান। মাঝে মাঝে মুখের সামনে ধরছেন জলের গ্লাস। খাওয়াতে খাওয়াতে মুছিয়ে দিচ্ছেন মুখ। সন্ত্রাসদীর্ণ কাশ্মীরে এই টুকরো ভালবাসার ছবি আজ দিনভর ঘুরেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সিআরপিএফ জানিয়েছে, ভিডিয়োর ওই জওয়ানের নাম ইকবাল সিংহ। দু’মাস আগে পুলওয়ামার হামলার সময়ে কোনও মতে প্রাণে বেঁচেছিলেন ৪৯ ব্যাটেলিয়ানের ওই চালক।

৩১ সেকেন্ডের এই ভিডিয়োটি কে রেকর্ড করেছেন তা জানা যায়নি। এটি পোস্ট করে আধাসেনা জানিয়েছে, বন্ধ দোকানের সামনে করুণ মুখে ওই শিশুকে বসে থাকতে দেখে এগিয়ে যান প্রধান কনস্টেবল ইকবাল। তাঁর হাতে খাবারের বাক্স দেখে ইঙ্গিতে খাবার চায় খুদে। বাক্সটা হাতে দিতে গিয়ে ওই জওয়ান দেখেন শিশুটি হাত নাড়াতে পারে না সে। এর পরেই শারীরিক প্রতিবন্ধী ওই শিশুকে নিজের হাতে খাবার খাইয়ে দেন তিনি।

উপত্যকায় নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের উপরে অত্যাচার চালানোর অভিযোগ নতুন নয়। সেখানে ইকবালের মতো মানবিক মুখকে তুলে ধরতে চাইছে সেনা। তাঁকে আধাসেনায় সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআরপিএফ। ভিডিয়োটি টুইট করে আধাসেনা লিখেছে, ‘‘সব ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবিকতা। বীরত্ব ও মায়া একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।’’ নাগরিকদের উদ্দেশে পুলিশ লিখেছে, ‘‘আমরা আপনাদের খেয়াল রাখি।’’ ইকবাল নিজেও বলেছেন, ‘‘বিপদে কাশ্মীরের মানুষকে সাহায্য করতে সর্বদা প্রস্তুত সিআরপিএফ।’’ 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

 

 

১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফের যে কনভয়ের উপরে হামলা চালায় জইশ জঙ্গিরা, সেই কনভয়ের একটি গাড়ি চালাচ্ছিলেন ইকবাল। জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ের উপরে বিস্ফোরণে নিহত হন তাঁর ৪০  জন সহকর্মী। সে দিনও ইকবাল ভয় উপেক্ষা করে বহু জওয়ানের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন বলে জানা যায়। ওই ঘটনার পরে তাঁকে শ্রীনগরের নাওয়াকাদল এলাকায় মোতায়েন করা হয়। ভিডিয়োটি সেখানেই তোলা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি টুইট করেছেন, ‘‘অনেক সময়েই সেনাবাহিনীর প্রত্যেককে এক নকশায় ফেলা হয়। তা ঠিক নয়। এই মানুষটির মানবিকতা ও মমত্ববোধকে সেলাম করি।’’