অপরিচ্ছন্ন হাসপাতাল, নার্স ও কর্মীদের দুর্ব্যবহার, একই ডাক্তারের অধীনে অসংখ্য রোগী— এর জেরেই মান নামছে চিকিৎসার। অনেক ক্ষেত্রে আবার ভুল চিকিৎসার শিকার রোগীরা। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বছরের পর বছর ভারতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবার কাঠামোকে নড়বড়ে করেছে এই বিষয়গুলি। মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যান্সেটে’ প্রকাশিত, দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবার কারণে প্রতি বছর মৃত্যু হয় ১৬ লাখ ভারতীয়ের। দৈনিক মারা যান গড়ে ৪ হাজার ৩০০ জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা অনেক ক্ষেত্রেই একেবারে তলানিতে। তুলনায় বেসরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসার মান উন্নত। চিকিৎসা ব্যবস্থার এই ফাঁকগুলি মেরামতের চেষ্টা করা হয়নি। সারা বিশ্বে স্বাস্থ্য পরিষেবার মান সংক্রান্ত একটি রিপোর্টে জানা গিয়েছে, পৃথিবীতে ৮৬ লাখ মানুষের মধ্যে ৫০ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ খারাপ মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা। বাকি ৩৬ লাখ মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিষেবার নাগালই পান না। রিপোর্ট বলছে, এই সমস্যা শুধু ভারতের নয়। নিম্ন ও মাঝারি আয়ের দেশগুলির ৩৪ শতাংশ বাসিন্দার একই অভিজ্ঞতা। যার ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর ভরসা ও বিশ্বাস কমেছে মানুষের।

অন্য একটি রিপোর্ট বলছে, শুধুমাত্র ভুল বা নিম্নমানের চিকিৎসাই নয়, অনেক সময়েই স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছতেই পারছেন না রোগী। এই প্রবণতা বেশি মাঝারি ও কম রোজগেরে দেশগুলিতে। যদিও বা চিকিৎসা হচ্ছে, চিকিৎসা পরবর্তী যত্নের কোনও বালাই নেই অনেক ক্ষেত্রে। নেই রোগীর প্রতি সম্মান বা সহানুভূতি। তা ছাড়া, চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর বোঝাপড়া বা সংযোগের অভাবও কঠিন করছে কাজ। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মার্গারেট ই ক্রুক বলেছেন, ‘‘অসুস্থ রোগীর যত্ন নেওয়া উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার চাবিকাঠি।’’

পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট কে শ্রীনাথ রেড্ডি জানিয়েছেন, ভারতে সরকারি হাসপাতালগুলির মান খারাপ হওয়ার একাধিক কারণ রয়েছে। সবচেয়ে বড় কারণ প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব। অর্থ না থাকায় সরকারি হাসপাতালগুলি উন্নতমানের যন্ত্র ব্যবহার করতে পারে না। দেশ-বিদেশের লগ্নিকারীদের অর্থ এবং ব্যাঙ্ক ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকায় বেসরকারি হাসপাতালগুলি তা পারে। বেশি বেতন দিয়ে ভাল মানের ডাক্তারদেরও ‘ধরে’ রাখতে পারে তারা। রেড্ডি আরও জানান, অনেক দেশই প্রাইভেট প্র্যাকটিসে বাধা নেই সরকারি ডাক্তারদের। ফলে স্বাভাবিক ভাবে তাঁদের মনোযোগ ও সময় কমছে। খারাপ হয়ে যাচ্ছে পরিষেবার মান।