• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

আলোচনা বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে

এইচ১বি-তে বদল রুখতে তৎপর দিল্লি

H-1B Visa

Advertisement

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ভিসা-নীতি রুখতে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে কাজে লাগাতে চাইছে নয়াদিল্লি। বিষয়টি নিয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈরিতা তৈরি করে নয়, এ ব্যাপারে সুকৌশলে এগোনোর নীতিই নেওয়া হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, সেই কাজ ইতিমধ্যে শুরুও হয়ে গিয়েছে।

আজ সংসদে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মোদী সরকার। রাজ্যসভায় কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলি এই নিয়ে সরব হয়। সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানান, যে হেতু ‘এইচ-১-বি’ ভিসায় রদবদল ঘটিয়ে আইন প্রণয়নের বিষয়টি মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হতে ঢের দেরি আছে, ভারত এখনই এই নিয়ে আক্রমণাত্মক হবে না। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, পাকিস্তান ও চিন নিয়ে ট্রাম্প যে অবস্থান নিচ্ছেন, সেটা ভারতের জন্য যথেষ্ট সুবিধেজনক। অগ্নিগর্ভ প্রতিবেশী বলয়ের মধ্যে বসে এখনই ট্রাম্পের সঙ্গে ‘যুদ্ধং দেহী’ মনোভাব নেওয়া সম্ভব নয় সাউথ ব্লকের। পাশাপাশি, ট্রাম্প ঘরোয়া চাপের মুখে পড়ে তাঁর অবস্থান কিছুটা বদল করেন কি না, সেটাও দেখতে চাইছে ভারত।

আজ সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি, কংগ্রেসের আনন্দ শর্মা সংসদের ভিতরে ও সংসদের বাইরে ধর্নায় তৃণমূল নেতারা বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন। তাঁদের দাবি, মার্কিন ভিসা-নীতি রুখতে ও ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের ভরাডুবি আটকাতে সরকার কী পদক্ষেপ করছে, তা সংসদে জানানো হোক। বিরোধীদের চাপেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি কোনও মন্ত্রী। শুধু এ-টুকু জানানো হয়েছে, সাংসদদের এই উদ্বেগ বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে জানানো হবে। কিন্তু কেন্দ্রের এক শীর্ষ মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘আমরাও হাত গুটিয়ে বসে নেই। বিরোধীদের থেকে আমাদের উদ্বেগ কম নয়। ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।’’

কী সেই প্রক্রিয়া?

সরকারি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ভারতের ও মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্তাদের সঙ্গে কেন্দ্রের আলোচনা শুরু হয়েছে। ওরাকেল-এর মতো মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে ভারত সরকারের আলোচনা হয়েছে। সংসদ শেষ হচ্ছে ৯ তারিখ। তারপর বাণিজ্য মন্ত্রক সমস্ত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাকে নিয়ে একটি বৈঠক ডাকছে। সেখানে থাকবেন ন্যাসকমের প্রতিনিধি ও এই শিল্পের বিভিন্ন কর্তা। বাণিজ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হবে, এই পরিস্থিতিতে তাঁরা কী ভাবে নিজেদের কৌশল ঠিক করছেন। সেখানে সরকার কী করতে পারে সেই পরামর্শও চাওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রক বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ রাখছে। সমানে খবরাখবর নেওয়া হচ্ছে, আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস থেকে। বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘‘শুধু ভিসা নীতিই নয়, নতুন মার্কিন সরকারের সামগ্রিক ভাবে যে রক্ষণশীল মনোভাব দেখা যাচ্ছে সেটা গভীর উদ্বেগের। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে বারবার বিষয়টিকে তোলা হবে।’’

প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে ডেকে, তাদের সঙ্গে কথা বলে, কী হবে?  কেন সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে না? বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে বলা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই ফোনে ট্রাম্পকে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আমলা স্তরেও কথা চলছে। পাশাপাশি এটাও বলা হচ্ছে, যে মার্কিন সংস্থাগুলি ভারতীয় কর্মীদের নিয়োগ করে, তারা এটা ভালই জানে যে ভারতীয় কর্মী নিয়োগ, ভারতের জন্য লাভজনক তো বটেই। কিন্তু ভারতের থেকে কয়েক গুণ বেশি লাভ আমেরিকার। সাধারণত পূর্ব ইউরোপ, মালয়েশিয়া, ভারত বা ব্রাজিল থেকেই আমেরিকা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে পেশাদার নিয়োগ করে। কিন্তু দেখা গিয়েছে, ভারতীয় কর্মীরা এ ক্ষেত্রে কর্মদক্ষতায় বাকি দেশগুলির থেকে অনেকটাই এগিয়ে। এক ভারতীয় কর্তার বক্তব্য, এই সারসত্যটা ভারত কূটনৈতিক ভাবে বলার পাশাপাশি যদি সে দেশের কর্পোরেট সংস্থাগুলি ট্রাম্পের মাথায় ঢোকাতে পারেন, তবে তা অনেক বেশি কার্যকরী হবে।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন