রীতিমতো চাপ দিয়ে নিজের দাবির বেশির ভাগটাই আদায় করে ছেড়েছেন গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী নিতিন পটেল। শপথ নেওয়ার প্রায় ছ’দিন পর রবিবার কার্যভার গ্রহণ করেছেন বিজয় রূপাণী মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ওজনদার পটেল-মুখ।

তিন দিনের মধ্যে অর্থ, নগরোন্নয়ন ও পেট্রোলিয়াম দফতরের দায়িত্ব দিতে হবে। এমনটাই দাবি তুলেছিলেন। কারণ, ওই সব দফতরের দায়িত্ব তিনি এত দিন সামলে এসেছেন। আর সে কারণেই ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন ‘পুরনো দায়িত্ব’ ফেরত না-পেলে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। নিতিন পটেলের এই দাবির কাছেই রবিবার কিছুটা পিছু হঠতে বাধ্য হয় বিজেপি।

পুরনো দফতরের মধ্যে একমাত্র অর্থই তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নগরোন্নয়ন, পেট্রোলিয়াম মুখ্যমন্ত্রী রূপাণীর হাতেই রয়েছে। অর্থ দফতর ফের ফিরে পাওয়ায় সোমবার নিতিন বললেন, ‘‘এত দিন একটা নির্দিষ্ট দফতর সামলে এসেছি। সেখান থেকে অন্য দফতরের দায়িত্ব নেওয়া আমার পক্ষে কঠিন হত। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সেই অনুরোধ করেছিলাম। তাঁরা সেটি মেনে নিয়েছেন। সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি খুশি।’’

আরও পড়ুন: এই শতাব্দীর নতুন ভোটই লক্ষ্য মোদীর

রাজনৈতিক মহলের মতে, নিতিনকে বোঝানোর বিষয়টি মোটেই সহজ ছিল না বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। তাঁকে রাজি করাতে আরএসএস ও বিজেপি নেতারা ধারাবাহিক ভাবে মধ্যস্থতা চালিয়ে গিয়েছিলেন। এমনকী, তাঁকে রাজি করাতে আসরে নামতে হয় খোদ দলীয় সভাপতি অমিত শাহকে। তিনি ফোন করেন নিতিনকে। অর্থ দফতর ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পরই সুর নরম করেন গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: নিতিন ঠান্ডা, তবু রয়েই গেল যন্ত্রণা

রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরই দফতর বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নিতিন। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেছিলেন, ‘‘নিজের দফতর ফেরত চাওয়ায় ভুল কিছু নেই। কম গুরুত্বপূর্ণ দফতর নিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী থেকে কী লাভ? আমি অপমানিত। যাঁদের জানানোর আমি তাঁদেরকেই জানিয়েছি।’’

মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার ছিলেন নিতিন। কিন্তু, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি। আর এ বার আবার অর্থ দফতর তাঁর হাত থেকে নিয়ে দেওয়া হয়েছিল অম্বানীদের আত্মীয় সৌরভ পটেলকে। এর পরই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন নিতিন।