শিশু দিবসের দিনেই মিজোরামের লুংলেই গ্রামের বালক লালরিনডিকা এ ভাবে যে অলৌকিক মানব-এর দেখা পেয়ে যাবে ভাবতেই পারেনি! জন্ম থেকেই খণ্ডিত ঠোঁট (ক্লেফ্ট লিপ) তার। লজ্জায় গুটিয়ে থাকত সে। গরিব পরিবারের ১১ বছরের ছেলেটার জীবন সম্প্রতি বদলে গিয়েছে। মণিপুরের তামেংলঙের জেলাশাসক আর্মস্ট্রং পামের সৌজন্যে ইম্ফলের হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের পরে ঠোঁট জুড়ে গিয়েছে লালরিনডিকার।

২০০৮ সালের আইএএস, নাগা-জেমি জনজাতির মানুষ আর্মস্ট্রং বরাবরই গরিবের পাশে দাঁড়ান। ২০১২ সালে সরকারি সাহায্যের তোয়াক্কা না করে, তামেংলং-নাগাল্যান্ড সংযোগকারী ১০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজে হাত দিয়েছিলেন তিনি। ফেসবুক ব্যবহার করে সেই কাজের জন্য সংগ্রহ করেছিলেন ৪০ লক্ষ টাকা। এরপর ভূমিপুত্র আর্মস্ট্রং গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে নিজেই রাস্তা তৈরিতে নেমে পড়েন। সমাজের উপকারে সোশ্যাল মিডিয়ার এমন ব্যবহার দেখে মুগ্ধ মার্ক জাকারবার্গ আর্মস্ট্রংকে ফেসবুকের সদর দফতরে আমন্ত্রণ জানান। ওই রাস্তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিপলস রোড’ আর আর্মস্ট্রংকে সেখানকার মানুষ নাম দিয়েছেন ‘মিরাকল ম্যান’। সপ্তাহের একদিন তামেংলংয়ের বিভিন্ন গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা তাঁর সঙ্গে নৈশাহার সারেন। তাঁদের আইএএস হওয়ার স্বপ্ন দেখান আর্মস্ট্রং। ২০১৫ সালে তিনি দেশের সেরা আইএএস অফিসারের পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

সদ্য সমাপ্ত মিজোরাম ভোটে নির্বাচন কমিশনের পরিদর্শক হিসেবে লুংলেই জেলার দায়িত্ব পান আর্মস্ট্রং। ১৪ নভেম্বর, সেখানেই লালরিনডিকার সঙ্গে তাঁর দেখা। লাজুক ছেলেটা নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকত। আর্মস্ট্রং জানতে পারেন অস্ত্রোপচার করে ঠোঁট ঠিক করানোর সামর্থ্য তাঁর বাবার নেই। ভোটের পরে বাবা ও ছেলেকে লুংলেই থেকে ইম্ফলে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানকার হাসপাতালে দেখানো হয় লালকে। সম্প্রতি সফল অস্ত্রোপচারে সে সুস্থ। হাসপাতালের সব ব্যয়ভার আর্মস্ট্রংই বহন করেছেন। উদ্দেশ্য, মনমরা ছেলেটার মুখে হাসি ফোটানো।

লালরিনডিকার বাবা ভানলালসিয়ামা বলেন, ‘‘এ বারের বড়দিনের আগে মণিপুরের ‘মিরাকল ম্যান’ আমার ছেলে ও গোটা পরিবারের জন্য সান্তা ক্লজ হিসেবে এলেন।’’ আর আর্মস্ট্রং বলেন, ‘‘আমি চাই আজকের ছোটরাও যেন সুস্থ ও পরোপকারের আদর্শ বুকে নিয়েই বেড়ে ওঠে।’’