কাটমানি নিয়ে বিজেপি-তৃণমূল সাংসদদের তরজা থামাতে বলেছিলেন, লোকসভাকে রাজ্য বিধানসভার স্তরে নামিয়ে ফেলবেন না। ফের তৃণমূলকে প্রায় একই রকম কটাক্ষে বিঁধলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রাজ্যের স্বাস্থ্যবিমার ঢাক পেটাচ্ছেন, তখনই অধ্যক্ষের খোঁচা, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের বিপণন করবেন না।’’

কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা পাওয়া যায়। গরিব মধ্যবিত্তদের চিকিৎসার কথা মাথায় রেখেই এই প্রকল্প চালু করেছে মোদী সরকার। আবার রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের স্বাস্থ্যবিমার প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’তে বছরে ২ লক্ষ টাকা চিকিৎসার খরচ পাওয়া যায়। শুক্রবার লোকসভার প্রশ্নোত্তর পর্বে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়েই বক্তব্য শুরু করেন।

সুদীপ তাঁর বক্তৃতায় তুলে ধরার চেষ্টা করেন, কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর চেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প অনেক ভাল। রাজ্য সরকারের প্রকল্পে কেন্দ্রের প্রকল্পের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ সুবিধা রয়েছে বলে দাবি করেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা। সেই সময়ই তাঁর উদ্দেশে স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের বিপণন করবেন না।’’ যদিও তার পরও থামেননি তৃণমূল সাংসদ। ‘স্বাস্থ্যসাথী’র সুযোগ-সুবিধার পুরো ফিরিস্তি দিয়ে তার পর বক্তৃতা শেষ করেন।

আরও পডু়ন: ‘এত নির্লজ্জ আপনি, এখনও চেয়ার আঁকড়ে আছেন!’, বনগাঁর পুর চেয়ারম্যানকে তীব্র ভর্ৎসনা বিচারপতির

আরও পড়ুন: ‘আকাশ থেকে পড়বে না ৫ লক্ষ কোটির অর্থনীতি’, নির্মলার দাবি নিয়ে তির্যক মন্তব্য প্রণবের

সুদীপের বক্তব্যের বিরোধিতা করে পরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের পাল্টা দাবি, পশ্চিমবঙ্গ যে স্বাস্থ্যবিমার প্রকল্প চালু করেছে, তার অনেক সীমাবদ্ধতা বা খামতি রয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ই যে সর্বশ্রেষ্ঠ সে কথা জোর দিয়ে বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে এখনও কয়েকটি রাজ্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প গ্রহণ করেনি। সেই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ওই রাজ্যগুলিও খুব শীঘ্রই এই প্রকল্প নিজেদের রাজ্যে গ্রহণ করবে।