বিতর্ক চলছিল অনেক দিন ধরেই। প্রশ্ন উঠছিল, তিনমূর্তি ভবনের নেহরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম ও লাইব্রেরিতে মোদী জমানায় জওহরলাল নেহরুই পরবাসী হয়ে পড়ছেন। এ বার তাই নিয়েই পত্রবোমা ফাটালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া ভাষায় চিঠি লিখে মনমোহনের সতর্কবাণী, ‘‘নেহরুর ভূমিকা মুছে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।’’ মনমোহন মনে করিয়ে দিয়েছেন, সদ্য প্রয়াত অটলবিহারী বাজপেয়ীর জমানাতেও নেহরু মেমোরিয়ালের চরিত্র বদলের চেষ্টা হয়নি। কোনও সংশোধনবাদই তাঁর ভূমিকা ও অবদান মুছে ফেলতে পারবে না। দীর্ঘ ১৬ বছর দিল্লির তিনমূর্তি ভবনই জওহরলাল নেহরুর বাসভবন ছিল। সেখানেই তৈরি হয় নেহরু মেমোরিয়াল। কিন্তু মোদী জমানায় নেহরু মেমোরিয়ালের কিছু অংশ জুড়ে দীনদয়াল উপাধ্যায় মিউজিয়াম হয়েছে। এখন পরিকল্পনা, ওখানে বাকি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদেরও মিউজিয়াম তৈরি হবে। একে নেহরুর বহুত্ববাদী চিন্তাভাবনার সঙ্গে তাঁর স্মৃতিও মুছে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই দেখছে কংগ্রেস।

এখানেই আপত্তি তুলেছেন মনমোহন। তিনি সরাসরি মোদীকে চিঠি লিখে বলেছেন, জওহরলাল নেহরু বা তিনমূর্তি ভবন একা কংগ্রেসের নয়, গোটা জাতির সম্পদ। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর স্মৃতি হিসেবেই তিনমূর্তিকে রেখে দেওয়া হোক। তাতে মানুষের অনুভূতিকেও সম্মান জানানো হবে। ইতিহাস, ঐতিহ্যকেও মর্যাদা দেওয়া হবে। মনমোহন মনে করিয়ে দিয়েছেন, নেহরুর প্রয়াণের পর বাজপেয়ী নিজেই সংসদে বক্তৃতায়  বলেছিলেন, তিনমূর্তিতে এমন আর কোনও বাসিন্দা আসবেন না।

নেহরু মেমোরিয়ালের বর্তমান অধিকর্তা শক্তি সিনহা এর আগে একাধিক বার যুক্তি দিয়েছেন, তাঁদের কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। মনমোহনের চিঠির প্রেক্ষিতেও মেমোরিয়াল কর্তৃপক্ষের যুক্তি, তাঁরা সংস্থাটিকে আরও গণতান্ত্রিক করতে চাইছেন। যেখানে সব প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কেই সচেতনতা তৈরির চেষ্টা হবে। কারণ বাকি প্রধানমন্ত্রীদের ভূমিকা অবহেলিত হয়েছে। এর সঙ্গে নেহরুর ভূমিকাকে খাটো করে দেখানোর কোনও সম্পর্ক নেই।

মনমোহনের পরামর্শ, নেহরু মেমোরিয়াল প্রথম শ্রেণির গবেষণা  কেন্দ্র হিসেবেই থাকুক। মিউজিয়ামের প্রধান নজর থাকুক নেহরু ও স্বাধীনতা সংগ্রামের উপরেই।