দু’দিন ধরে প্রচারের আলো কেড়ে রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিকে আজ প্রিয়ঙ্কা গাঁধীও ফিরে এসেছেন দেশে। রাতে ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনাতেও বসেছেন। তিন দিন পরে দলের সাধারণ সম্পাদকদের বৈঠক ডেকেছেন রাহুল গাঁধী। প্রিয়ঙ্কাও সামিল হবেন তাতে। সিবিআই বিতর্কের মধ্যেই নিজের প্রচার কৌশলের লক্ষ্যে স্থির থেকে ফের নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করলেন রাহুল। সেটি করতে মাধ্যম করলেন নিতিন গডকড়ীকে। 

পাঁচ রাজ্যে বিজেপির হারের পর থেকেই গডকড়ী দফায় দফায় এমন কিছু কথা বলছেন, যা পরোক্ষে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘ক্ষোভ প্রকাশ’ বলেই অনেকে মনে করছেন। যদিও গডকড়ী দু-এক বার যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর মন্তব্য বিকৃত করা হচ্ছে। কাল নাগপুরের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘নিজের ঘর সামলাতে না পারলে দেশ সামলানো যায় না।’’ 

এই মন্তব্যের সূত্র ধরেই আজ রাহুল টুইট করলেন, ‘‘অভিনন্দন গডকড়ীজি! বিজেপিতে আপানারই একমাত্র সৎসাহস আছে। অনুগ্রহ করে রাফাল দুর্নীতিতে অম্বানী যোগ, কৃষকদের দুর্দশা আর প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা নিয়েও কিছু বলুন।’’ প্রকাশ্যে এমন চ্যালেঞ্জ চলে আসায় গডকড়ীও আরও বেশি পাল্টা আক্রমণাত্মক হলেন। তিনখানি টুইটে তিনিও রাহুলকে বিঁধলেন। 

গডকড়ী বললেন, ‘‘মোদীজি আর আমাদের সরকারের সাফল্য এটাই, হামলা করতেও আপনাকে কাঁধ খুঁজতে হচ্ছে। বুক দাপিয়ে বলছি, রাফাল নিয়ে আমাদের সরকার সব থেকে পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে।’’ দ্বিতীয় টুইটে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনি-সহ কয়েক জন মোদীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সহ্য করতে পারেন না। তাই অসহিষ্ণুতা আর সাংবিধানিক সংস্থার উপরে হামলার স্বপ্ন আসে।’’

আর শেষ টুইটটিতে গডকড়ীর আক্রমণ, ‘‘আমাদের আর কংগ্রেসের ডিএনএর ফারাক— আমরা গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক সংস্থায় ভরসা রাখি। আপনার ফন্দি চলছে না। মোদীজিই ফের প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু আপনি ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল আচরণ করবেন আশা করি।’’ গডকড়ীর টুইট যেন দেখেও দেখেননি রাহুল। ফের আর একটি টুইট করেন, ‘‘ওহ্ গডকড়ীজি, ক্ষমা চাইছি! আমি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। চাকরি! চাকরি! চাকরি!’’

এত দিন গডকড়ীর মন্তব্যে অস্বস্তিতে থাকা বিজেপি যেন আজ স্বস্তি পেল। সার বেধে নেতারা তাঁর টুইট প্রচারে নেমেছেন।