নাইট রাইডার্সে কালো টাকার লেনদেন নিয়ে ইডি-র প্রশ্নের মুখে পড়লেন শাহরুখ খান।

মঙ্গলবার মুম্বইতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট শাহরুখের বয়ান নথিভুক্ত করে। ইডি সূত্রের খবর, ২০০৮-’০৯-এ নাইট রাইডার্স স্পোর্টস সংস্থার শেয়ার বেচায় বেনিয়মের অভিযোগে শাহরুখকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগেই এ বিষয়ে শাহরুখকে সমন করা হয়েছিল।

সম্প্রতি শাহরুখ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুখ খুলে বিজেপি নেতাদের তোপের মুখে পড়েছিলেন। অনেকে কটাক্ষ করেছিলেন, ইডি-র সমন পেয়েই শাহরুখ মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। তারপরে দেওয়ালির ঠিক আগে শাহরুখকে জিজ্ঞাসাবাদের পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইডি কর্তাদের অবশ্য দাবি, বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই শাহরুখকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১-এও ১০০ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা নয়ছয়ের মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

কী সেই অভিযোগ?

শাহরুখের রেড চিলিজ সংস্থা, জুহি চাওলা ও তাঁর স্বামী জয় মেহতার মালিকানাধীন নাইট রাইডার্স স্পোর্টস সংস্থার শেয়ার জয় মেহতারই মালিকানাধীন আরেকটি সংস্থাকে বিক্রি করা হয়। সি আইল্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস মানের ওই সংস্থাটির উৎপত্তি কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য মরিশাসে। বাজার দর অনুযায়ী সে সময় নাইট রাইডার্সের প্রতি শেয়ারের দাম হওয়া উচিৎ ছিল ৭০ থেকে ৮৬ টাকা। কিন্তু শেয়ার প্রতি মাত্র ১০ টাকা দরে ওই শেয়ার হাতবদল হয়। বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, বিদেশি কোনও সংস্থাকে শেয়ার বেচতে গেলে সেবি নির্ধারিত দামের কমে তা বেচা যাবে না।

প্রথমে নাইট রাইডার্স সংস্থা এ ক্ষেত্রে আইন ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করে। যুক্তি ছিল, সঠিক দামেই শেয়ার বেচা হয়েছে। গত বছর নভেম্বরে নিরপেক্ষ অডিট সংস্থাকে দিয়ে ইডি লেনদেন খতিয়ে দেখে। ওই অডিট সংস্থাও রায় দেয়, অনেক কম দামে শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এমনকী জুহি চাওলার কাছে যে নাইট রাইডার্সের যে শেয়ার ছিল, তা-ও জয় মেহতার সংস্থাকে একই ভাবে কম দামে বেচা হয়েছে। নাইট রাইডার্স সংস্থার তরফে অবশ্য ইডি-কে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সংস্থা নতুন তৈরি হয়েছে। লাভের বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই লাভ আয়ের ক্ষমতার ভিত্তিতে শেয়ারের বাজার দর ঠিক না করে এ ক্ষেত্রে সংস্থার মোট সম্পত্তির ভিত্তিতে শেয়ারের দর ঠিক হওয়া উচিৎ।

ইডি কর্তাদের যুক্তি, নাইট রাইডার্সের তথ্য অনুযায়ী মরিশাসের ওই সংস্থাকে শেয়ার বেচায় ৯ কোটি টাকার মতো লেনদেন হয়েছিল। কিন্তু শেয়ারের সঠিক দর অনুযায়ী, প্রায় ৮০-৯০ কোটি টাকার শেয়ার বেচা হয়েছে। অর্থাৎ ৯ কোটি টাকা দিয়েই মরিশাসনের একটি সংস্থা এ দেশের একটি সংস্থার ৮০-৯০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে ফেলেছে। কালো টাকার লেনদেনের ক্ষেত্রেই এইভাবে কম দামে শেয়ার কেনাবেচা করা হয়।

ইডি সূত্রের বক্তব্য, শাহরুখ খান তাঁদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। ইডি-র চাহিদা মতো বেশ কিছু নথিও তুলে দিয়েছেন শাহরুখ।