আগামিকালই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের জন্য শপথ নিতে চলেছেন  নরেন্দ্র মোদী। তার আগে দুর্নীতি মামলায় গাঁধী পরিবারকে নিশানা করে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ করল তদন্তকারী সংস্থা ইডি। বিদেশে বেআইনি সম্পত্তি কেনার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামিকালই রবার্ট বঢরাকে ডেকে পাঠিয়েছে ইডি। দিল্লি হাইকোর্টে ইডির আইনজীবী আজ বলেন, রবার্ট দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে মামলা চালানোর প্রয়োজন। কোর্টে ইডির অভিযোগ, অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভান্ডারীর সঙ্গে বঢরার যোগ রয়েছে।

বৃহদন্ত্রে টিউমার রয়েছে, সে কথা জানিয়ে চিকিৎসার জন্য ব্রিটেন এবং অন্য দু’টি দেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে দিল্লির একটি আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন রবার্ট। সেই আর্জির বিরোধিতা করে ইডির তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা আজ বলেন, ‘‘বঢরাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। যেখানে কালো টাকা জমা রয়েছে, সেখানেই চিকিৎসা করতে যাওয়ার অছিলায় সেখানে যেতে চাইছেন তিনি। তাঁর যা শারীরিক অবস্থা, তাতে মনে হয় তিনি রুটিন মেডিক্যাল চেক আপে যেতে চাইছেন।’’ আদালত রবার্টের আবেদন নিয়ে ৩ জুন পর্যন্ত রায় স্থগিত রেখেছে। ব্রিটেনে বেশ কয়েকটি বেআইনি সম্পত্তি রাখার অভিযোগে প্রিয়ঙ্কার গাঁধী বঢরার স্বামী রবার্টকে বহু বার জেরা করেছে ইডি। লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরেই তাঁর আগাম জামিন বাতিলের আর্জি নিয়ে তদন্তকারী সংস্থাটি আদালতেও গিয়েছিল। আজ গাঁধী পরিবারের জামাইকে সমন পাঠিয়ে বলা হয়েছে, আগামিকাল হাজিরা দিতে হবে।

পাশাপাশি, ইডির তরফে আজ জানানো হয়েছে, হরিয়ানার পঞ্চকুলার গাঁধী পরিবারের সঙ্গে জুড়ে থাকা সংবাদপত্র ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’-এর প্রকাশক সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড’-এর (এজেএল) জন্য বরাদ্দ জমি শীঘ্রই বাজেয়াপ্ত করতে চলেছে তারা। ২০০৫ সালে হরিয়ানার তৎকালীন কংগ্রেস সরকার এজেএলকে যে জমি বরাদ্দ করেছিল, তাতে বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ এনেছিল ইডি। জমিটি বাজেয়াপ্ত করতে গত ডিসেম্বরেই অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্ত নেয় ইডি। তাদের তরফে আজ জানানো হয়েছে, প্রায় ৬৫ কোটি টাকার ওই সম্পত্তির দ্রুত দখল নেওয়া হবে। জমি হস্তান্তর নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিংহ হুডার বিরুদ্ধেও চার্জশিট দাখিল করেছে সিবিআই। সেখানে গাঁধী পরিবারের আর এক ঘনিষ্ঠ নেতা মতিলাল ভোরার ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ আনা হয়েছে। পঞ্চকুলার জমি নিয়ে ইডি আজ বলেছে, ‘‘এজেএলকে যে দামে জমি দেওয়া হয়েছিল, তার দাম ঠিক করার ক্ষেত্রে জালিয়াতি হয়েছিল। কালোটাকা প্রতিরোধ আইনে সম্পত্তিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’’  

এজেএলকে নিয়ন্ত্রণ করেন গাঁধী পরিবার ও তাদের ঘনিষ্ঠ নেতারা। ন্যাশনাল হেরাল্ডের সম্পত্তি হস্তান্তর মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে আনা মামলায় জামিন পেয়েছেন সনিয়া, রাহুল গাঁধীরা। লোকসভা ভোটের প্রচারে বিযটি নিয়ে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে মোদীকে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রবার্টকে সামনে রেখে গাঁধী পরিবারকে ফের কোণঠাসা করতে নামতে পারে মোদী সরকার।