জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে উপত্যকায় যে ধরপাকড় শুরু হয়েছিল, তা থেকে রেহাই পায়নি নাবালক-নাবালিকারাও। এখনও আটক এমন অন্তত ১২ জনের পরিজন প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদের আর্জিটুকুও কানে তুলছে না কেউ। বাধ্য হয়েই এ বার বয়সের প্রমাণ হিসেবে স্কুল-সার্টিফিকেট-সহ জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সেই সব নাবালক-নাবালিকার আত্মীয়েরা। যে ‘জন নিরাপত্তা আইনে’ তাদের আটক করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

আদালত সূত্রের খবর, সম্প্রতি এমন ১২টি হেবিয়াস কর্পাস আর্জি জমা পড়েছে হাইকোর্টের শ্রীনগর শাখায়। এর মধ্যে ৬ জন ১৮ বছরের, ২ জন ১৭ বছরের, ২ জন ১৬ বছরের এবং ১ জন ১৫ বছরের বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার। এখন আদালত খতিয়ে দেখতে চাইছে এদের বয়সের প্রমাণপত্র। স্কুলে-স্কুলে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পাশাপাশি, ডাক্তারি পরীক্ষারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল পর্ব শুরু হওয়া থেকে জম্মু-কাশ্মীরের প্রায় চার হাজার জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু-কিশোরের সংখ্যাও নেহাত কম নয় বলে গোড়া থেকেই সরব দেশের একটা বড় অংশ। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ করা জুভেনাইল জাস্টিস কমিটি একটি রিপোর্টে জানায়, ৫ অগস্ট থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপত্যকার ১৪৪ জন শিশু-কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে ১৪২ জনকে পরে ছেড়েও দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন।