শুক্রবার বিকেলে সুরতের বহুতলে আগুন লেগে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২০ জনের। যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল ছাত্র-ছাত্রী। আগুন লেগে ছাত্র-ছাত্রীদের মৃত্যুতে সারা দেশ যখন শোকাহত, তখনই আগুন নেভানোর প্রশ্নে দমকলের ভূমিকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন। খবর দেওয়ার পরও দমকল আসতে অনেকটাই দেরি করেছে বলে অভিযোগ তুললেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গিয়েছে, গতকাল সুরতের তক্ষশীলা কমপ্লেক্সে আগুন লাগার পর খবর দেওয়া হয় দমকলে। ওই কমপ্লেক্স থেকে দমকল কেন্দ্রের দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। কিন্তু সেই পথ আসতেই প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে দমকলের। এমন ভয়াবহ ঘটনার খবর পাওয়ার পরেও কী ভাবে দমকলের গাড়ি এত দেরিতে এল তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, যে পাইপ দিয়ে জল দেওয়া হচ্ছিল সেটাও খুবই দুর্বল ছিল। জলের তোড় সেরকম বেশি না থাকায় কিছুতেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছিল না।

সুরতের তক্ষশীলা কমপ্লেক্সের কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ। সেই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২০ জনের। পুলিশ জানিয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ওই কোচিং সেন্টারের পড়ুয়া। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। এই ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি লোকআহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ কমিশনার সতীশ শর্মা একসংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘‘ভেন্টিলেশনে রয়েছে দুই পড়ুয়া। ইনটেসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রয়েছে আরও ৩ জন। কোচিং সেন্টারের মালিক এবং ওই তক্ষশীলা বিল্ডিংয়ের নির্মাতাদের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করেছে সুরত পুলিশ।

কী ভাবে এই আগুন লেগেছিল তা জানতে দমকল আধিকারিকরা তদন্ত শুরু করেছেন। তবে প্রাথমিক ভাবে তাদের অনুমান, রাস্তার পাশে ট্রান্সফর্মার থেকেই এই আগুন লেগেছে। এবং মূহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে বিল্ডিংয়ের উপরের তলায়। 

আরও পড়ুন: গুজরাতের বহুতলে আগুন, আতঙ্কে ঝাঁপ ছাত্রদের, মৃত্যু অন্তত ২০ জনের