প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক সঞ্জীব ভট্টকে গ্রেফতার করল গুজরাত পুলিশের সিআইডি। গুজরাত পুলিশ জানিয়েছে, ২২ বছরের পুরনো একটি মাদক সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২২ বছরের পুরনো এই মামলার তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেয় গুজরাত হাইকোর্ট। সঞ্জীব ভট্ট ছাড়া আরও কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গুজরাত সিআইডি।

১৯৯৬ সালের এই মামলায় রাজস্থানের এক আইনজীবীকে ভুয়ো মাদকের মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছিল গুজরাত পুলিশের বিরুদ্ধে। একটি হোটেলের ঘর থেকে দেড় কেজি মাদক-সহ গ্রেফতার করা হয় সুমের সিংহ রাজপুরোহিত নামের ওই আইনজীবীকে। পরে জানা যায়, তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই গুজরাতের বনসকান্থা জেলাপুলিশের নেতৃত্বে এই মাদক রাখা হয়েছিল । সেই সময় বনসকান্থা জেলার সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ ছিলেন সঞ্জীব ভট্ট। সেই মামলার জেরেই ২২ বছর পর গ্রেফতার করা হল বরখাস্ত হওয়া পুলিশ আধিকারিক সঞ্জীব ভট্টকে।

আরও পড়ুন: কাশ্মীরের আলাদা সংবিধানে লঘু হয়েছে সার্বভৌমত্ব, ডোভালের মন্তব্য নিয়ে জোর বিতর্ক

যদিও অনেকের মতে, ২২ বছর পুরনো মামলা খুঁচিয়ে বার করে এনে সঞ্জীব ভট্টকে গ্রেফতারি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। ২০০২  সালে গোধরাকাণ্ডের সময় থেকেই গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরাগভাজন সঞ্জীব ভট্ট। বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যেই মোদীর বিরুদ্ধে মুখে খুলেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিয়মিত মোদী সরকারের সমালোচনা করেন। ২০১৫ সালের অগস্টে তাঁকে বরখাস্ত করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

আরও পড়ুন: কণ্ঠরোধ নয়, মাও-যোগের স্পষ্ট প্রমাণেই ভারভারাদের গ্রেফতার, হলফনামায় জানাল মহারাষ্ট্র পুলিশ

কিছুদিন আগেই তাঁর বাড়ির একটি অংশ বেআইনি অভিযোগে ভেঙে দেয় অমদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। তাতেও অবশ্য থামানো  যায়নি সঞ্জীব ভট্টকে।গত সপ্তাহে পতিদার আন্দোলনের নেতা হার্দিক পটেলের অনশনমঞ্চে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। হার্দিক পটেলকে সমর্থনের কথাও জানান তিনি। তার পরই এই গ্রেফতারিতে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। 

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)