ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল পদক জয়ী প্রাক্তন এক কুস্তিগীরকে। তাঁর নাম নরেশ দাহিয়া। মঙ্গলবার রাতে বছর ছেচল্লিশের ওই কুস্তিগীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, কেরলের বাসিন্দা নরেশ দিল্লির একটি আখড়ায় কুস্তির কোচিং করান। নিজের রাজ্যেও তাঁর একটি ট্রেনিং স্কুল রয়েছে। নরেশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছে দিল্লিরই এক কিশোরী কবাডি খেলোয়াড়। গত সোমবার করা সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই নরেশকে গ্রেফতার করেছে মডেল টাউন থানার পুলিশ।

আরও পড়ুন

আবাসনে ঢুকে হুমকি মহম্মদ শামিকে, বাড়ি ঘিরে তৈরি হল সুরক্ষা-ব্যূহ

পুলিশের কাছে ওই কিশোরী অভিযোগ করেছে, গত ৯ জুলাই দিল্লির রোহিণী এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে তাকে ধর্ষণ করেন নরেশ। তার দাবি, সপ্তাহ কয়েক আগে প্রথম বার আলাপ হয়। সেই সময় নরেশ নিজেকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামের শীর্ষ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ওই স্টেডিয়ামের অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এর পর ৯ জুলাই স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নিজের গাড়িতেই রোহিণীর একটি ফ্ল্যাটে ওই কিশোরীকে নিয়ে যান নরেশ। তাকে বলা হয়, নরেশের বেশ কিছু বন্ধু তার সঙ্গে আলাপ করতে চান। তাঁরা ওই ফ্ল্যাটে অপেক্ষা করছেন বলে জানানো হয়। কিশোরী জানিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে পৌঁছনোর পর তাকে পানীয় খেতে দেওয়া হয়। তাতে সম্ভবত মাদক মেশানো ছিল। কারণ, তা খাওয়ার পরই সে বেহুঁশ হয়ে পড়ে। সেই সময়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর কিশোরীকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামের সামনের রাস্তায় নামিয়ে দেন নরেশ। বিষয়টি নিয়ে কারও কাছে মুখ না খোলারও হুমকি দেওয়া হয়।

পুলিশের কাছে কিশোরীর দাবি, ঘটনার পর মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সে। সে কারণেই প্রথমে পুলিশে কাছে অভিযোগ দায়ের করেনি। অবশেষে গত সোমবার মডেল টাউন থানায় নরেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে ওই কিশোরী। সে অভিযোগের ভিত্তিতেই নরেশের তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। গত কাল রাতে মডেল টাউনে তাঁর খোঁজ মেলে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, “জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে নরেশ।” তাঁর বিরুদ্ধে ৩৭৬ ধারা-সহ নাবালিকা ধর্ষণের পস্কো আইনে মামলায় রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।