কালো টাকার কারবারিদের চমকে দিতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সমালোচকেরা বলছেন, বাস্তবে ঢের বেশি চমকেছেন তিনি নিজেই। ডিমনিটাইজেশনের ধাক্কা যে সরকারকে এত দিক থেকে সামলাতে হবে, সেটা সম্ভবত আঁচ করতে পারেননি তিনি। প্রথমত, রবি চাষ শুরু ও বিয়ের মরসুমে যে নগদ টাকা লাগবে, সেটা মাথায় রাখেননি কেন্দ্রের কর্তারা। এটাও হয়তো বোঝেননি যে, কালো টাকার কারবারিরা নতুন নিয়মের ফাঁকফোকর খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। ফলে অবস্থা সামলাতে জারি করতে হয়েছে নিত্যনতুন নির্দেশিকা। আর তার ঠেলায় জেরবার গোটা দেশ, বিশেষ করে গরিবরা। অর্থনীতিবিদদের একাংশের প্রশ্ন, এখনও যাঁরা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে, এর পর তাঁরা ব্যাঙ্কে টাকা রাখতে ভরসা পাবেন তো?

 

কখনও নরেন্দ্র মোদী বলছেন, কখনও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কখনও আবার অর্থসচিব মুখ খুলে পাল্টে দিচ্ছেন খোদ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা। নিত্যনতুন সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, ডিমনিটাইজেশনের ধাক্কায় এলোমেলো অর্থ-ব্যবস্থার রাশ ধরতে তৈরি ছিল না কেন্দ্র। গত ২৩ দিনে যে ভাবে পাল্টাল একের পর এক সিদ্ধান্ত:

 

১) টাকা জমা

৮ নভেম্বর: যত খুশি টাকা জমা দেওয়া যাবে, তবে ৫০,০০০ টাকার বেশি হলে প্যান চাই

৯ নভেম্বর: ২,৫০,০০০ টাকার বেশি জমা দিলেই আয়কর দফতর নজর রাখবে

১৪ নভেম্বর: সমবায় ব্যাঙ্কে পুরনো নোট জমা দেওয়া যাবে না

২২ নভেম্বর: স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে পুরনো নোট জমা দেওয়া যাবে না। শুধু সেভিংস অ্যাকাউন্টে দেওয়া যাবে

২৪ নভেম্বর: ১০০০ টাকার নোট শুধু অ্যাকাউন্টেই জমা দিতে হবে।

 

২) টাকা তোলা

৮ নভেম্বর: ব্যাঙ্ক থেকে দিনে ১০,০০০ টাকা তোলা যাবে, সপ্তাহে ২০,০০০

এটিএম থেকে দিনে ২০০০ টাকা তোলা যাবে। অঙ্কটি পরে বেড়ে হবে ৪০০০

১৩ নভেম্বর: সপ্তাহে তোলা যাবে ২৪,০০০ টাকা; দিনে কত, তার ঊর্ধ্বসীমা নেই।

এটিএম থেকে দিনে তোলা যাবে ২৫০০

১৪ নভেম্বর: তিন মাসের বেশি পুরনো কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে সপ্তাহে ৫০,০০০ টাকা তোলা যাবে। এটিএম থেকে টাকা তোলার চার্জ ৩০ ডিসেম্বর অবধি মকুব

১৫ নভেম্বর: এটিএম থেকে পরে ৪০০০ টাকা তুলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত খারিজ।

পেট্রোল পাম্পে  তোলা যাবে ২০০০ টাকা

২২ নভেম্বর: বিগ বাজার থেকেও পাওয়া যাবে ২০০০ টাকার নোট

২৪ নভেম্বর: বিদেশি নাগরিকরা সপ্তাহে মাত্র ৫০০০ টাকা তুলতে পারবেন

২৮ নভেম্বর: নতুন বা চালু নোটে জমা দেওয়া টাকা কোনও ঊর্ধ্বসীমা ছাড়াই তোলা যাবে

৩০ নভেম্বর: জন ধন অ্যাকাউন্ট থেকে মাসে ১০,০০০ টাকার বেশি তোলা যাবে না। কেওয়াইসি না থাকলে তোলা যাবে  ৫০০০

৪) কৃষি

১৭ নভেম্বর: কৃষিঋণ বা কিষান ক্রেডিট কার্ড থেকে পাওয়া টাকা হলে প্রতি সপ্তাহে ২৫,০০০ টাকা তোলা যাবে। আরটিজিএস বা চেকের মাধ্যমে কেওয়াইসি করা অ্যাকাউন্টে টাকা এলে সপ্তাহে ২৫,০০০ টাকা তোলা যাবে। এপিএমসি-তে নথিভুক্ত ব্যবসায়ী সপ্তাহে ৫০,০০০ টাকা তুলতে পারবেন

২১ নভেম্বর: কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের দোকান থেকে পুরনো নোটে বীজ কেনা যাবে

৫) বিয়ে

১৭ নভেম্বর: পাত্র-পাত্রী বা তাঁদের মা-বাবার অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা যাবে আড়াই লক্ষ টাকা। অ্যাকাউন্টটিতে কেওয়াইসি করা থাকতে হবে। দিতে হবে নিজস্ব ঘোষণাপত্রও

১৮ নভেম্বর: অ্যাকাউন্টে যদি ৮ নভেম্বরের আগে টাকা থাকে, একমাত্র তা হলেই বিয়ের টাকা তোলা যাবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই, এমন লোকদেরই নগদে টাকা মেটানো যাবে। তাঁদের লিখে দিতে হবে যে তাঁদের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই

 

৬) কালো টাকা

১০ নভেম্বর: টাকা আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন হলে ৩০% করের ওপর ২০০% জরিমানা

২৯ নভেম্বর: নিজেই স্বীকার করে নিলে ৫০% কর ও জরিমানা দিয়ে বাকিটা রাখা যাবে।

জমা দেওয়া টাকা ‘কালো’ বলে প্রমাণিত হলে ৭৫% কর ও জরিমানা