প্রায় এক শতক আগের কথা। ১৯২৪ সাল। সে বারেও বানভাসি হয়েছিল কেরল। মানুষের দুরবস্থা দেখে এগিয়ে এসেছিলেন স্বয়ং মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী। বন্যা ত্রাণের জন্য প্রায় ৬ হাজার টাকা তুলেছিলেন তিনি।

এ বছর এখনও পর্যন্ত কেরল-বন্যায় ৩০২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ঘরহারা অন্তত ১০ লক্ষ। সে বারের বন্যায় আরও বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’, ‘নবজীবন’-এ একের পর এক প্রবন্ধ লেখেন গাঁধী। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আর্জি জানান। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন মহিলা-শিশুরাও। কেউ নিজের সোনার গয়না দিয়ে দেন তো কেউ দুধের টাকা বাঁচিয়ে তুলে দেন ত্রাণে। নবজীবনে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে গাঁধী একটি বাচ্চা মেয়ের কথা লিখেছিলেন। সে তিন পয়সা চুরি করেছিল ত্রাণে দেওয়ার জন্য।

এ বারের বন্যাতেও ইতিমধ্যেই বহু কোটি টাকার ত্রাণ এসে পৌঁছেছে রাজ্যে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নেতা, রজনীকান্ত, অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খানের মতো অভিনেতারাও সাহায্য পাঠিয়েছেন। আজ কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন রাজ্যবাসীর উদ্দেশে আর্জি জানিয়েছেন, রাজ্যের পুনর্গঠনে এক মাসের বেতন ত্রাণ-তহবিলে দান করতে। দেশের সব স্তরের মানুষ যে ভাবে কেরলকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন, আজ ‘মন কি বাত’-এ তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। কেন্দ্রের তরফ থেকে ৬০০ কোটি টাকা অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। ভবিষ্যতে আরও সাহায্য পাঠানো হবে বলে আজ কেরলের রাজ্যপাল পি সদাশিবমকে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।