• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

স্কুল অধিগ্রহণ আইন বাতিল করল হাইকোর্ট

ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি স্কুল অধিগ্রহণ করা ও সে সব স্কুলের শিক্ষকদের সরকারি বেতনের আওতায় আনার আইনকেই বাতিল করে দিল গৌহাটি হাইকোর্ট। ফলে রাজ্যজুড়ে ফের ‘ভেঞ্চার স্কুল’-এর শিক্ষকদের আন্দোলন হতে চলেছে।

কংগ্রেস সরকারের কাছে অধিগ্রহণের আশ্বাস পেয়েছিল ভেঞ্চার স্কুলগুলি। শুধু স্কুলই নয়, নিম্ন প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল গড়ার পাশাপাশি অনেকে কলেজও তৈরি করে ফেলেছিলেন বেসরকারি ভাবে। সেই সবের অধিগ্রহণ দাবি করা হচ্ছিল। কারণ স্কুল-কলেজ গড়লেও শিক্ষকরা টাকা পাচ্ছিলেন না তেমন। অথচ সেখানে ছাত্রছাত্রীও ছিল। তাই সরকারও স্কুল বন্ধ করে দিতে পারছিল না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখে স্কুল-কলেজগুলিকে সরকারি সাহায্যের আওতায় আনার কথা বিবেচনার আশ্বাস দেন। সেই সব স্কুলের শিক্ষকদেরও দফায় দফায় সরকারি চাকরির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছিল তরুণ গগৈ সরকার। কংগ্রেস আমলে দিনের পর দিন ভেঞ্চার স্কুল শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়েছেন। পুলিশের লাঠিতে অনেকে জখম হন। অর্থাভাবে আত্মহত্যাও করেছেন বেশ কয়েকজন ভেঞ্চার শিক্ষক।

শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে ‘অসম ভেঞ্চার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস (প্রভিনসিয়ালাইজেশন অফ সার্ভিসেস) অ্যাক্ট-২০১১’ পাশ হয় বিধানসভায়। তখন শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন হিমন্তবিশ্ব শর্মা। নতুন সরকারের আমলেও তিনিই শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে। ২০১৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে স্কুল অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়। রাজ্যে প্রচুর এই ধরণের স্কুল-কলেজ রয়েছে। ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ভেঞ্চার স্কুলগুলির। তাই সরকার অধিগ্রহণ আইন এনে, যোগ্যতা বিচার করে ওই ধরণের স্কুল অধিগ্রহণের কাজ হাতে নেয়। অবশ্য তখনই আমলারা জানিয়েছিলেন, এ ভাবে যে কেউ নিজে স্কুল খুলে সরকারি সাহায্য ও বেতনের দাবি জানাতে পারে না। কারণ স্কুল সরকারের নির্দেশে খোলা হয়নি। কিন্তু ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ও আন্দোলনের চাপে যুক্তি পিছনে চলে যায়।

গত বছর মার্চে তদানীন্তন শিক্ষামন্ত্রী শরৎ বরকটকি বিধানসভায় জানান, ৫,০৪৯টি নিম্ন প্রাথমিক ও ১৭৫৩টি প্রাথমিক স্কুলকে সরকারি সাহায্যের আওতায় আনা হয়েছে। আরও ২৩১১টি নিম্ন প্রাথমিক ও ২৯৭৯টি প্রাথমিক স্কুল অধিগ্রহণের কাজ চলছে। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী মিলিয়ে নিম্ন প্রাথমিকের ১০,৩১৮ জন, প্রাথমিকের ১১,৬৩৯ জন, হাইস্কুল ও হাই মাদ্রাসার ১৪,৭০৪ জন, উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের ৬২৬ জন, জুনিয়ার কলেজের ১৭৯ জন ও কলেজের ২৭৮০ জনের চাকরি সরকারি আওতায় আনা হয়েছে। আরও ৭৩৭১টি নিম্ন প্রাথমিক, ৪৭৩২টি প্রাথমিক, ১৪৭৪টি হাইস্কুল ও হাই মাদ্রাসা, ৬৮টি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল, ১২টি জুনিয়ার কলেজ ও ১৩৪টি কলেজকে অধিগ্রহণের পক্ষে উপযুক্ত বলে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

কিন্তু ওই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কিছু আবেদন জমা পড়ে। গৌহাটি হাইকোর্টের হৃষিকেশ রায় ও পরাণকুমার ফুকনের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁদের রায়ে জানিয়েছেন, ওই আইন অবৈধ ও হঠকারি। ওই আইনে বিস্তর ফাঁক রয়েছে। শিক্ষার অধিকার আইন, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় আইন না মেনেই ওই আইন আনা হয়েছিল। বর্তমান আইনটি বেআইনি নিয়োগ ও বৈষম্যকে মদত দেয়। আদালতের বক্তব্য, ব্যক্তিগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে সরকারি চাকরির আওতায় আনা প্রতিযোগিতাভিত্তিক ছিল না বা পরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়নি। তাই, এ ধরণের নিয়োগ রাজ্যের পরবর্তী প্রজন্মের ভিত দুর্বল করতে পারে। ২০১১ সালের আইনকে সাংবিধানিকভাবে অবৈধ বলে রায় দিয়ে আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, আগামী ছ’মাসের মধ্যে নতুন করে আইনটি আনতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানান, রায়ের প্রতিলিপি পেলে, আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে ও সব দিক বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন