বিপুল সাফল্যেও জগনের সামনে চ্যালেঞ্জ অন্ধ্রের স্পেশাল স্টেটাস, মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা
দিল্লি পৌঁছেই মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছেন। রাজনৈতিক কথাবার্তা না হলেও এই সাক্ষাতের মাধ্যমে দিল্লির সঙ্গে হায়দরাবাদ যে সঙ্ঘাত নয়, বরং বন্ধুত্বপূর্ণ বাতাবরণই বজায় রাখতে চায়, জগন সেই বার্তা দিয়ে এলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
Modi-Jagan

দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে জগনমোহন রেড্ডি। ছবি: পিটিআই

অন্ধ্রের জন্য ‘বিশেষ মর্যাদা’র দাবি আদায়ের প্রতিশ্রুতিতেই বিপুল জয় পেয়েছেন জগনমোহন রেড্ডি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসছেন জগন। একই সঙ্গে সংসদেও পাঠাচ্ছেন ২২ জন সাংসদকে। লোকসভা-বিধানসভায় এই বিপুল জয়ের পর ওয়াইএসআরসিপি সুপ্রিমো জগনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই স্পেশাল স্টেটাসই। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার প্রথম ধাপ হিসাবে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দিল্লিতে দেখা করলেন নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। সাক্ষাৎ করেন অমিত শাহর সঙ্গেও। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় বার শপথ নেওয়ার আগেই জগনের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ যে আদপে সেই ‘স্পেশাল স্টেটাস’ আদায়েরই উপক্রমণিকা, তা মানছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

অন্ধ্রপ্রদেশে এ বার লোকসভার সঙ্গেই বিধানসভার ভোটও হয়েছে। বিধানসভায় ১৭৫ আসনের মধ্যে ওয়াইএসআরসিপি-র প্রার্থীরা জিতেছেন ১৫১টি আসনে। মূল প্রতিপক্ষ চন্দ্রবাবুর তেলুগু দেশম পার্টির ঝুলিতে আসন সংখ্যা মাত্র ২৩। লোকসভাতেও শোচনীয় হারের মুখ দেখতে হয়েছে টিডিপি প্রার্থীদের। ২৫ আসনের মধ্যে সপ্তদশ লোকসভায় জগনের শুধু যে ২২জন প্রতিনিধি যাচ্ছেন তাই নয়, সংসদে তৃতীয় বৃহত্তম দলও ওয়াইএসআরসিপি (বিজেপি এবং কংগ্রেসের পরেই)।

কিন্তু তাতেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ জগনের কপালে। কেন? কারণ অন্ধ্র্রের ‘স্পেশাল স্টেটাস’। ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে তেলঙ্গানা আলাদা রাজ্য হওয়ার পর থেকেই এই দাবি ঘিরেই মূলত আবর্তিত দক্ষিণের এই রাজ্যের রাজনীতি। কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিশেষ মর্যাদা দিচ্ছে না, এই অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন জোটে থাকা অন্ধ্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু এনডিএ ছেড়ে বিরোধী জোটে শামিল হন। কার্যত সেই সুযোগটাই নেন জগন। এ বছরের গোড়াতেই ৩৬৪৮ কিলোমিটার পদযাত্রা করে অন্ধ্রবাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, চন্দ্রবাবুর পক্ষে অন্ধ্রের বিশেষ মর্যাদা আদায় সম্ভব নয়। তাঁর দলই পারে সেই দাবি আদায় করতে। জগনের উপর আস্থা রেখে ভোটবাক্স ভরে দিয়েছেন অন্ধ্রের মানুষজন।

কিন্তু এখন জগনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সেই দাবি আদায় করা। কেন চ্যালেঞ্জ? কারণ, বিজেপি তথা এনডিএ-র বিপুল সাফল্য। ফের মজবুত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে মোদী সরকার। ফলে জগনের কাছে দর কষাকষির আর তেমন সুযোগই থাকল না। বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বা এনডিএ জোট সরকার গঠন করার মতো অবস্থায় না থাকলে সমর্থনের বিনিময়ে দাবিদাওয়া আদায় অনেক সহজ হত জগনের জন্য। কিন্তু সেই সুযোগ আপাতত বিশ বাঁও জলে। এখন বরং কেন্দ্রের সঙ্গে তাল মিলিয়েই যতটা সম্ভব আদায় করার চেষ্টা করতে হবে জগনকে।

আরও পড়ুন: লক্ষদ্বীপে বিস্ফোরণ ঘটাতে শ্রীলঙ্কা থেকে রওনা আইএস জঙ্গিদের! হাই অ্যালার্ট কেরল উপকূলে

আরও পড়ুন: বিজেপিকে ভোট কেন? দলবল নিয়ে চড়াও হয়ে গ্রামবাসীদের হাতেই পাল্টা মার খেলেন তৃণমূল নেতা

সেটা বুঝেছেন জগনও। তাই তড়িঘড়ি দিল্লি পৌঁছেই মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছেন। রাজনৈতিক কথাবার্তা না হলেও এই সাক্ষাতের মাধ্যমে দিল্লির সঙ্গে হায়দরাবাদ যে সঙ্ঘাত নয়, বরং বন্ধুত্বপূর্ণ বাতাবরণই বজায় রাখতে চায়, জগন সেই বার্তা দিয়ে এলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

তবে উদ্বেগ গোপনও রাখেননি অন্ধ্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডির ছেলে জগন। জগন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এনডিএ যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তার পর অন্ধ্রের স্পেশাল স্টেটাস আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ল। তবে দাবি থেকে থেকে যে তিনি এবং তাঁর দল সরবে না, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন জগন। তিনি বলেন, ‘‘যত বাধাই আসুক, এই স্পেশাল স্টেটাসের দাবি থেকে আমরা সরব না।’’ তিনি এও জানিয়েছেন, মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়ে বিশেষ মর্যাদার বিষয়টি আলোচনা করবেন।

২০০৯ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্ধ্রের জনপ্রিয়তম মুখ্যমন্ত্রীদের অন্যতম রাজাশেখর রেড্ডির। কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মৃত্যুর পর মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি করেছিলেন জগন। কিন্তু কংগ্রেস সেই দাবি মানেনি। তার পর থেকেই দলের সঙ্গে সংঘাত এবং শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে আলাদা দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস গঠন করেন জগন। ৮ বছর পর তাঁর নেতৃত্ব স্বীকৃতি পেল। অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসলেও জগনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্যের জন্য স্পেশাল স্টেটাস। রাজনৈতিক শিবিরের পর্যবেক্ষণ, কার্যত এই প্রশ্নেই জগনের রাজনৈতিক কেরিয়ার অনেকটাই নির্ভরশীল।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত