পরিবারের হোয়াট্‌সঅ্যাপে গ্রুপে ভিডিয়োটা দেখে আঁতকে উঠেছিলেন বোন। ভিডিয়োতে তাঁর দাদা বলছেন, পটাশিয়াম সায়ানাইড কিনেছেন। তা খেয়েই আত্মহত্যা করবেন। তার আগে অবশ্য নিজের স্ত্রী-ছেলেমেয়েদের খুন করেছেন বলেও জানান তিনি।

তড়িঘড়ি দাদার শ্যালককে সব কথা খুলে বলেন বোন। তাঁকেই পাঠিয়েছিলেন দাদার ফ্ল্যাটে। রবিবার সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে তাঁর বৌদি ও নাবালক সন্তানদের দেহ। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সুমিত কুমার। অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বছর চৌত্রিশের ওই যুবক তার স্ত্রী-সন্তানদের কুপিয়ে খুন করেছেন। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে।

সুমিতের শ্যালক জানিয়েছেন, রবিবার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে তিনি দেখেন, ভিতর থেকে দরজা বন্ধ। ধাক্কাধাক্কি করেও কেউ দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেন তিনি। এর পর পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে। সকলের দেহেই ধারাল অস্ত্রের আঘাত ছিল।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

গাজিয়াবাদ পুলিশের এসপি (সিটি) শ্লোক কুমার জানিয়েছেন, ইন্দিরাপুরমে একটি আবাসনের তিনতলার ফ্ল্যাটে স্ত্রী-তিন ছেলেমেয়ে ও শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন সুমিত। গত কাল ভোরে ওই ফ্ল্যাটে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী অংশু বালা (৩২), তাঁদের পাঁচ বছরের ছেলে প্রথমেশ এবং আরব ও আকৃতি নামে চার বছরের যমজ সন্তানের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, আর্থিক টানাটানির কারণেই স্ত্রী-সন্তানদের খুন করেছেন সুমিত।

আরও পড়ুন: প্রেমিকের সঙ্গে জুটি বেঁধে অত্যাচার চালাত স্ত্রী, সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী স্বামী

এই ঘটনায় একেবারে হতবাক সুমিতের আত্মীয়রা। তাঁরা জানিয়েছেন, ২০১১-তে অংশুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সুমিতের। গুরুগ্রাম, নয়ডা ও বেঙ্গালুরুতে একাধিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। ২০১৮-র অক্টোবরে বেঙ্গালুরুতে কাজ শুরু করেন। তবে সেখানে মাস দুয়েক কাজের পর গত ডিসেম্বরে ইস্তফা দিয়ে দেন। এর পর নিজের ভাইয়ের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতেই থাকতেন। পরে ফিরে আসেন গাজিয়াবাদে। পঙ্কজ সিংহ বলেন, “প্রথমটায় জানতেই পারিনি কাজে ইস্তফা দিয়েছে সুমিত। হোলির সময় সে কথা জানতে পারলাম। তবে ঠিক কী কারণে কাজ ছেড়ে দিল, তা জানি না। গত শুক্রবার ওর সঙ্গে কথা হয়েছিল। খুব সিগারেট খাচ্ছিল। ওদের সংসারে বেশ টানাটানি চলছিল। তা ছাড়া ওর ব্যবহারও যেন কেমন হয়ে গিয়েছিল।”

আরও পড়ুন: তিনতলার জানলা থেকে ঝুলন্ত মহিলাকে উদ্ধার, রুদ্ধশ্বাস ভিডিয়ো ভাইরাল

ঘটনার সময় সুমিতের শ্বশুর-শাশুড়ি ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন পঙ্কজ। সপ্তাহখানেক আগেই তাঁরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। 

রবিবার গভীর রাতে সুমিতকে ফ্ল্যাটের থেকে বাইরে বেরিয়ে যেতে দেখেন ওই আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী ইন্দ্রজিৎ সিংহ। তাঁর কথায়, “সাড়ে ১১টা নাগাদ সিগারেট খেতে খেতে ফ্ল্যাটের সিঁড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে দেখি ওকে। তার পর রাত ৩টে নাগাদ মেন গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখি। তবে রাতে ওদের ফ্ল্যাট থেকে কোনও আওয়াজ শুনিনি।”

হোয়াট্‌সঅ্যাপ ভিডিয়োতে সুমিত জানিয়েছেন, স্ত্রী-সন্তানদের মাদক মিশিয়ে বেহুঁশ করে দেন তিনি। এর পর একটি ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেন তাঁদের।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই সুমিত নিখোঁজ। তাঁর মোবাইল ফোনও সুইচড অফ। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।