‘ভুয়ো খবর’ প্রচার করলে কড়া শাস্তির বিধান দিল কেন্দ্র। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি সোমবার জানিয়েছেন, ‘ভুয়ো খবর’ প্রমাণ হলে সাংবাদিকের সরকারি স্বীকৃতি এ বার কেড়ে নেওয়া হবে। প্রথম দফায় ৬ মাসের জন্য। পরের বার এক বছর। তৃতীয় বার একই কাজ করলে পাকাপাকি।

কেন্দ্রের এই নির্দেশিকায় দানা বেঁধেছে বিতর্ক। এর ফলে সংবাদমাধ্যমের উপরে সরকারি নিয়ন্ত্রণের পথই প্রশস্ত হবে বলে মনে করছে সংবাদমাধ্যমের একাংশ, বিরোধীরাও। এ দিন রাতেই কংগ্রেসের আহমেদ পটেল এবং কিছু সাংবাদিক এ নিয়ে স্মৃতিকে টুইটারে প্রশ্ন করেন। স্মৃতির পাল্টা যুক্তি, যা করার সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থাই করবে। তাতে সরকারের কোনও ভূমিকা নেই, থাকবেও না।

ভুয়ো খবরের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে আলোচনা চলছে বেশ কিছু দিনই। ইদানীং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়তেও দেরি হয় না। কী ভাবে এর প্রতিকার সম্ভব, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলেই চিন্তা চলছে। বস্তুত ভুয়ো খবর ছ়ড়ানোর ব্যাপারে গেরুয়া শিবিরের দিকেই বেশি আঙুল উঠছে। সম্প্রতি কর্নাটকে গেরুয়া-ঘনিষ্ঠ নিউজ-সাইটের কর্ণধারকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। সেখানে মোদী সরকারই যখন ভুয়ো খবর রুখতে আসরে নামল, তখন রাজনৈতিক সেন্সরশিপের হাতছানি দেখছেন অনেকেই।

এ দিন এডিটর্স গিল্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা নির্দেশিকাটি খতিয়ে দেখছেন। আগামী কাল এ ব্যাপারে বিবৃতি দেওয়া হতে পারে। কাল বিকেল চারটেয় দিল্লির প্রেস ক্লাবে একটি বৈঠকও ডাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ছেলে কালো, গায়ে পাথর ঘষলেন মা!

সরকারি প্রেস বিবৃতি বলেছে, এখন থেকে ভুয়ো খবরের অভিযোগ এলেই তা প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (পিসিআই, মুদ্রিত খবরের জন্য) এবং নিউজ ব্রডকাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর (এনবিএ, চ্যানেলগুলির জন্য) কাছে পাঠানো হবে। তারা দু’সপ্তাহের মধ্যে বিচার করে দেখবে, খবরটি সত্যিই ভুয়ো কি না। তত দিন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের স্বীকৃতি সাসপেন্ডেড থাকবে। খবর ভুয়ো প্রমাণ হলে বিধিমতো শাস্তি হবে।

নতুন কোনও সাংবাদিক যখন স্বীকৃতির জন্য আবেদন করবেন, তখন তিনি পিসিআই এবং এনবিএ-র নির্দেশিকা অনুসরণ করে এসেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। যে সাংবাদিকদের সরকারি স্বীকৃতি নেই, তাঁদের বিরুদ্ধে মন্ত্রক অন্য ভাবে পদক্ষেপ করবে।

ডিজিটাল পোর্টাল এবং ওয়েবসাইটগুলি অবশ্য এ দিনের নির্দেশিকার আওতায় নেই। তবে তাদের বাঁধতেও আলাদা কমিটি হচ্ছে, রাতে টুইট করে জানিয়েছেন স্মৃতি।

বিরোধীদের প্রশ্ন, ভুয়ো খবর রুখতে চাওয়া ভাল কথা। কিন্তু খবরটি ভুয়ো কি না, সেটা কে ঠিক করবে? ভুয়ো খবর বলে দেগে দিয়ে সাংবাদিকদের হেনস্থা করা হবে না তো? অাহমেদ পটেলের এই প্রশ্নের উত্তরে স্মৃতি লেখেন, খবর ভুয়ো কি না ঠিক করার ভার পিসিআই এবং এনবিএ-র উপরেই থাকছে। সেটা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, অতএব আশঙ্কার কিছু নেই বলেই স্মৃতির দাবি। তাঁর বরং প্রশ্ন, পিসিআই বা এনবিএ কেনই বা শুধু শুধু নিজের সাংবাদিকদের উপরে খড়্গহস্ত হবে?

স্মৃতির যুক্তিতে অবশ্য নিঃসংশয় নন বিরোধী এবং মিডিয়া মহল। কারণ তাঁদের মতে, খবরের উপরে খবরদারি মোদী সরকার বারবারই করে আসছে। ভুয়ো খবর প্রমাণ করার জন্য যে সরকারি মহল থেকে চাপ আসবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? বিতর্ক তাই থাকছেই।