কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল না, গুজরাতে ২০০২ সালের সাম্প্রদায়িক হিংসা ঠেকাতে সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছিলেন রাজ্যের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশেষ তদন্তকারী দলের এই রিপোর্টই বহাল রাখল গুজরাত হাইকোর্ট। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্টটিকে। জাকিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়ে আদালত জানাল, নরেন্দ্র মোদীদের বিরুদ্ধে নতুন করে ফৌজদারি মামলা শুরু করা হবে না।

২০০২ সালের হিংসায় গুজরাতের যে সব এলাকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার মধ্যে আমদাবাদ অন্যতম। সে শহরে সংখ্যালঘু প্রধান আবাসন গুলবর্গ সোসাইটিতে ভয়ঙ্কর হামলা হয়েছিল। অন্তত ৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ। গুলবর্গ সোসাইটিতে হওয়া সেই হামলাতেই মৃত্যু হয় প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরির। তিনি বার বার পুলিশকর্তাদের ফোন করে সাহায্য চাওয়া সত্ত্বেও কোনও সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি অভিযোগ তোলেন।

আরও পড়ুন: বাংলাকে হুঙ্কার এ বার যোগীরও

গুজরাতের হিংসাত্মক ঘটনার তদন্ত করতে সুপ্রিম কোর্ট যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছিল, সেই দল কিন্তু বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মানেনি। নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রশাসন হিংসাত্মক ঘটনা রোখার সব চেষ্টা করেছিলেন বলে বিশেষ তদন্তকারী দল রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টকে মান্যতা দেয় নিম্ন আদালত। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জাকিয়া জাফরি। ২০০২ সালের সাম্প্রদায়িক হিংসার নেপথ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল এবং গুজরাতের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি নেতৃত্ব ও বেশ কয়েকজন আমলা-সহ মোট ৫৯ জন সেই ষড়যন্ত্রে সামিল ছিলেন, এই অভিযোগ তোলেন তিনি। এঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার শুরু করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন: বিজেপি ছাড়া তৃণমূল দাঁড়াত না, খোঁচা মুকুলের

হাইকোর্ট সেই আবেদনের বিচার শেষ করল। বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্টকেই মান্যতা দিলেন বিচারপতি সনিয়া গোকানি। গুজরাত হিংসার মামলায় যিনি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শদাতা ছিলেন, বিশেষ তদন্তকারী দলের রিপোর্ট তিনি নিজে খতিয়ে দেখেছিলেন। সুতরাং এই রিপোর্টের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। হাইকোর্ট এমনই সওয়াল করেন বিশেষ তদন্তকারী দলের কৌঁসুলি। জাকিয়া জাফরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে মামলা করেছেন বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত জাকিয়ার আবেদন ধোপে টিকল না।