দেশ জুড়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর হয়েছে নয়া মোটর ভেহিকল আইন। ১৯৮৯-এর আইনটিতে নয়া সং৮৯ শোধনী আনার ফলে এখন ট্রাফিক রুল ভাঙলে জরিমানা দিতে হচ্ছে আগের চেয়ে আরও বেশি। গুজরাত সরকার কেন্দ্র প্রস্তাবিত বর্ধিত জরিমানার এই কাঠামো মেনে নিল। কিন্তু গাড়ির চালকদের সামান্য স্বস্তি দিয়ে আইনভঙ্গের ক্ষেত্রে ওই কাঠামোয় নির্ধারিত সর্বনিম্ন জরিমানাকেই ধার্য করল সেই রাজ্যের প্রশাসন।

গুজরাতের নয়া এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার জরিমানার যে প্রস্তাবিত কাঠামো তৈরি করেছে, তাতে গুজরাত সরকার রাজ্যবাসীকে সামান্য স্বস্তি দিতে নতুন জরিমানা নির্ধারিত করেছে। কেন্দ্রের এই আইন কড়া হাতে রাজ্যে ১০০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এখন থেকে গাড়ি চালকদের সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইনসিওরেন্স বা ধোঁয়ার কাগজের হার্ড কপি না রাখলেও হবে। মোবাইলে ওই সব নথির ছবি থাকলেও তা গ্রহণযোগ্য।’’

গুজরাতে ঠিক কী দাঁড়াচ্ছে জরিমানার পরিমাণ? ধরা যাক, হেলমেট না পরে কেউ আইনভঙ্গ করেছেন। সংশোধনী আসার আগে, এই ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ছিল ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, এই জরিমানা হবে ন্যূনতম ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা। গুজরাতের সিদ্ধান্ত, এই ক্ষেত্রে ন্যূনতম অর্থই নেওয়া হবে গাড়ির চালকদের থেকে। একই ভাবে চালকের কাছে লাইসেন্স না থাকলে, সর্বোচ্চ ধার্য ৫০০ টাকা না নিয়ে নেওয়া হবে ২ হাজার (দু’চাকার ক্ষেত্রে) ও ৩ হাজার টাকা। দু’চাকার গাড়িতে তিনজন উঠে ধরা পড়লেও নয়া আইনে প্রস্তাবিত ন্যূনতম ১ হাজার টাকা নেওয়া হবে। পলিউশন সার্টিফিকেট না থাকা, সিটবেল্ট না পরার মতো অন্যায়গুলিতেও একই নিয়ম চালু করছে গুজরাত সরকার।

আরও পড়ুন:সুপারি কিলার দিয়ে নিজেকেই খুন করালেন সুদের কারবারি! কেন
আরও পড়ুন:জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান-চিনের যৌথ বিবৃতি খারিজ ভারতের

নয়া মোটর ভেহিকল আইনটি জারি হওয়ার পর থেকেই ধরপাকড়ের খবর সংবাদ শিরোনামে। অনেকেরই জরিমানা দিতে গিয়ে ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রির মতো অবস্থা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিষ্কার জানিয়েছে, কেন্দ্রের এই নিয়ম পশ্চিমবঙ্গে আপাতত মানা হবে না। মধ্যপ্রদেশ সরকারের দাবি, জনগণ এই আইনটি সম্পর্কে অবহিত না হওয়া পর্যন্ত নয়া হারে জরিমানা নেওয়া হবে না। ওড়িশা প্রশাসনও নয়া হারে জরিমানা নেওয়ার আগে তিন মাস সময় দিয়েছেরাজ্যবাসীকে। তেলঙ্গানায় মুখ্যমন্ত্রী ও পরিবহণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি তৈরি হয়েছে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।