গত কাল থেকে লাগু হয়েছে এইচআইভি এডস (প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৭। মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। গত মার্চে রাজ্যসভায় পাশ হয় বিলটি। এডস আক্রান্ত রোগীরা বৈষম্যের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট ঘটনা অপরাধ বলে গণ্য হবে এই আইনে।

চাকরি, শিক্ষাজগৎ, স্বাস্থ্য ক্ষেত্র, জনসাধারণের ব্যবহার্য অন্যান্য ক্ষেত্র, সম্পত্তির অধিকার, বিমা— এ সব কিছুতে এডসের জন্য কোনও রকম বৈষম্যের অভিযোগ উঠলে রোগীরা এই আইনের সুবিধা নিতে পারবেন। আইন অনুযায়ী, এডস রোগীকে নিয়ে কোনও রকম ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ কিছু করলে, তার তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ দু’বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এক লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হতে পারে।

এই আইনের আওতায় এইচআইভি/এডস রোগীরা অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল চিকিৎসার অধিকার পাবেন। আইনে রয়েছে ‘পরীক্ষা ও চিকিৎসা’-র নীতিও। যার সাহায্যে কোনও ব্যক্তি পরীক্ষা করিয়ে এইচআইভি পজিটিভ ধরা পড়লে তার বিনামূল্যে চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার। আগে এই সুযোগ হত না।

এ ছাড়া, এইচআইভি সংক্রান্ত সব তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার পরিসরও রয়েছে আইনে। বলা হয়েছে, এইচআইভি পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হলে অনুমতিসাপেক্ষে নিতে হবে। এই আইন লঙ্ঘন সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্য সরকার বাধ্যতামূলক ভাবে এক জন নজরদার নিয়োগ করবে। এই নজরদারের নির্দেশ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যদি কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অমান্য করে, তা হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। পর পর এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা দিয়ে যেতে হবে, যত দিন পর্যন্ত সে নির্দেশ পালিত না হচ্ছে।