মাস তিনেক হাসপাতালে থাকার পর মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। গত বছর ডিসেম্বরে সেই মৃত্যুর পর থেকেই এক বছর ধরে শূন্য তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র। আগামী কাল সেখানে উপনির্বাচন। টানটান উত্তেজনার সেই উপনির্বাচনের আগের দিনই প্রকাশ্যে এল একটি ভিডিও। তাতে দেখা গেল, হাসপাতালের বেডে আধশোয়া হয়ে হেল্থ ড্রিঙ্ক খাচ্ছেন জয়ললিতা।

যত দিন জয়া হাসপাতালে ছিলেন, তত দিন কাউকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি তাঁর সঙ্গে। কোনও ভিডিও বাইরে আসেনি। কিন্তু মৃত্যুর এক বছর পরে তথা জয়ললিতার কেন্দ্র আরকে নগরে উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এল। স্বাভাবিক কারণেই জোর তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক শিবিরে।

যে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, তামিলনাড়ুর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম জয়ললিতা হাসপাতালের বেডে আধশোয়া। তাঁর হাতে একটি হেল্থ ড্রিঙ্ক বা জুসের গ্লাস। গ্লাসের মুখে ঢাকনা লাগানো। সেই স্ট্র-এর মাধ্যমে হেল্থ ড্রিঙ্কে চুমুক দিচ্ছেন জয়া।

জয়ললিতাকে যখন চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন তিনি অচৈতন্য ছিলেন। এমনটাই জানিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জয়ার দীর্ঘ দিনের বান্ধবী শশিকলা নটরাজন জয়াকে নিয়ে গিয়েছিলেন হাসপাতালে। শশিকলার বিরোধী শিবিরের একাংশ দাবি করেছিল, জয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মৃত জয়াকে মাস তিনেক হাসপাতালে রেখে শশিকলা নিজের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করেছিলেন বলে তাঁদের দাবি ছিল। যে ভিডিওটি আজ প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে চিকিৎসাধীন জয়াকে জীবিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলায় ৩৪! শুনে হতবাক মোদীর ভক্তকুল

বৃহস্পতিবার ভোট হবে জয়ললিতার মৃত্যুতে শূন্য হওয়া আসন আরকে নগরে। জয়ার দল এআইএডিএমকে-র তরফ থেকে প্রবীণ নেতা ই মধুসূদননকে প্রার্থী করা হয়েছে আরকে নগরে। তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছেন শশিকলার ভাইপো টি টি ভি দিনকরণ। আর জয়ার আসন জয়ার দলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে এ বার জোরদার লড়াইয়ে নেমেছে বিরোধী দল ডিএমকে। প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি-ও। অতএব আরকে নগরে এ বারের লড়াই অত্যন্ত টানটান। এমন এক উত্তপ্ত ভোটযুদ্ধের ঠিক আগের দিনে চিকিৎসাধীন জয়ললিতার ভিডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে প্রকাশ করা হল বলে শাসক দল এডিএমকে দাবি করছে। দিনকরণ ঘনিষ্ঠ এক আইনজীবী ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন বলে একাংশের অভিযোগ। দিনকরণ অবশ্য এই ভিডিও-র সঙ্গে তাঁর যোগের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন: রামমন্দির পরিকল্পনা ঘোষণা বছর শেষে

চিকিৎসাধীন জয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন চ্যানেলে তা সম্প্রচার করা শুরু হয়। পরে অবশ্য নির্বাচন কমিশন ভিডিওটির সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।