• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সাইকেলে শান্তিবার্তা নিয়ে হাওড়ার সন্দীপের লক্ষ্য ওয়াঘা

Sandip Chatterjee
সন্দীপ চট্টোপাধ্যায়

দেশে-বিদেশে ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি করেছেন বেশ কিছু দিন। করেছেন ব্যবসাও। তার পরে ফোল্ডিং সাইকেলটাই হয়ে উঠেছে যাবতীয় আগ্রহ আর আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

কোনও একটা ‘মিশন’ বা উদ্দেশ্যে সেই সাইকেল আর থাকার মতো একটি তাঁবু নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ঊনপঞ্চাশের সন্দীপ চট্টোপাধ্যায়। কখনও বাংলাদেশ তো কখনও শ্রীলঙ্কা। কখনও কামাখ্যা তো কখনও অমৃতসর। হাওড়ার বালির বাসিন্দা সন্দীপ নভেম্বরে বাংলাদেশ সীমান্ত পেট্রাপোল থেকে যাবেন পাকিস্তানের সীমান্ত ওয়াঘায়। এ বারের মিশন— সীমান্তে তৈরি অবাঞ্ছিত টেনশন কমানো। সাইকেলে শান্তির বার্তা। রাজ্যের মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্ল চিঠি লিখে দিয়েছেন। রামকৃষ্ণ মিশন ও ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সঙ্গেও নিত্য যোগাযোগ থাকে সন্দীপের। কোথাও এক ফালি জমি পেয়ে গেলে তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটিয়ে দেন। রাস্তায় পেট ভরানোর মতো যা পান, তা-ই খান। সঙ্গে থাকে জলের তল।

‘‘সাইকেল চালাতে ভালবাসি ছোটবেলা থেকেই। নেশার মতো। বন্ধু সুব্রত ভট্টাচার্য অনেক আগে এক বার সাইকেল নিয়ে কলকাতা থেকে দিঘা গিয়েছিল। খুব ইচ্ছে করেছিল আমারও। কিন্তু সেই সময় ভরসা পাইনি। শেষে সুব্রত এবং আর এক বন্ধু পরিতোষ দত্তের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছিলাম আলিপুরদুয়ার থেকে। বক্সা, জয়ন্তী ঘুরেছিলাম ২০০৫ সালে। সেই শুরু,’’ বললেন সন্দীপ।

তার পরে সাইকেল ভ্রমণের সঙ্গী খুঁজতেই বেশ কিছু দিন কেটে যায়। ১১ বছর পরে সন্দীপ ঠিক করেন, একাই বেরোবেন। জামশেদপুর থেকে চান্ডিল হয়ে অযোধ্যা পাহাড় ঘুরে আত্মবিশ্বাস জন্মায়।

শুধু বেড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই সন্দীপের স্বপ্ন, সন্দীপের ভাবনা। ৫১টি সতীপীঠ ঘুরে তা নিয়ে বই লেখার ইচ্ছে আছে তাঁর। ইতিমধ্যেই পঁচিশের বেশি পীঠ ঘোরা হয়ে গিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বৌদ্ধদের ধর্মপ্রচার, তাঁদের ধর্মভাবনা জানতে কলম্বো, ক্যান্ডি, জাফনা ছাড়াও বহু প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরেছেন। অভিজ্ঞতা হয়েছে বিস্তর। গত বছরের পুজোতেই বাংলাদেশের ভিতরে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার জুড়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্মস্থান ঘুরে দেখেছেন। সেই তালিকায় শচীন দেববর্মণ থেকে জ্যোতি বসু পর্যন্ত রয়েছেন অনেকেই। সেই অভিজ্ঞতা নিয়েও বই লেখার ইচ্ছে আছে সন্দীপের।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন