হিন্দু ধর্মে দেবদেবীদের নামে সম্পত্তি থাকে। তাই মামলাকারী হিসেবে তাঁরা আবেদন করতে পারেন। কিন্তু দেবতার জন্মস্থান কী করে মামলাকারী হতে পারে?

বৃহস্পতিবার, অযোধ্যা মামলায় শুনানির তৃতীয় দিনে এই প্রশ্ন তুলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। উত্তর দিলেন মামলাকারী সংগঠন রামলালা বিরাজমানের আইনজীবী কে পরাশরণ। বললেন, ‘‘হিন্দুধর্মে শুধু মূর্তি নয়, স্থানও পূজনীয় হতে পারে।... যেমন হিন্দুধর্মে নদী ও সূর্যের পূজা করা হয়। তাই জন্মস্থান মামলাকারী হতেই পারে।’’

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে বিতর্কিত জমি মামলাটির শুনানি চলছে। তাতে রাম ছাড়াও রামের জন্মস্থানকে অন্যতম মামলাকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের একটি রায়ের কথা তোলে সুপ্রিম কোর্ট। যেখানে মামলাকারী ছিল গঙ্গা নদীই! শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‘উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট নদীকেও মামলা করার ক্ষমতা দিয়েছে।’’ 

জন্মস্থানের গুরুত্ব বোঝাতে কোর্টেই সংস্কৃত শ্লোক আউড়ে পরাশরণ বলেছেন, ‘‘কথায় আছে জন্মস্থানের গরিমা স্বর্গের চেয়েও মহান।’’ প্রশ্নোত্তরের এই পালা চলেছে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরেও। 

রামলালা বিরাজমানের হয়ে আজ আরও কিছু অভিযোগ করেছেন পরাশরণ। তাঁর দাবি, ম্যাজিস্ট্রেট যখন জমিটিকে বিতর্কিত ঘোষণা করেন এবং নিম্ন আদালত স্থগিতাদেশ দিয়ে রিসিভার বসায় তখন রামলালা বিরাজমানকে দাবিদার বলে মেনে নেওয়া হয়নি। 

২০১০ সালে অযোধ্যা মামলা শুনানিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে ২.৭৭ একরের বিতর্কিত জমিটি রামলালা, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং নির্মোহী আখড়ার মধ্যে তিন ভাগে ভাগ করে দিতে বলা হয়। কিন্তু আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন জমা পড়ে। তার পরে গত ৮ মার্চ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এফএম ইব্রাহিম কলিফুল্লার নেতৃত্বে, আধ্যাত্মিক গুরু রবিশঙ্কর এবং আইনজীবী শ্রীরাম পঞ্চুকে নিয়ে তিন সদস্যের বিশেষ মধ্যস্থ কমিটি গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বার করতে বলা হয় তাঁদের। কিন্তু মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয় কমিটি। এর পরেই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ৬ অগস্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে রোজ শুনানি শুরু হয়েছে।