লোকসভা নির্বাচনে বিধ্বস্ত হওয়ার পরে উত্তরপ্রদেশে ভেঙে গিয়েছে এসপি-বিএসপি জোট। এসপি নেতা অখিলেশ সিংহ যাদব এবং বিএসপি নেত্রী মায়াবতী নিজেদের মতো করে চেষ্টা করছেন খেলায় ফিরে আসতে। আগামী ২১ অক্টোবর রাজ্যের ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির রথ আটকানোর চেষ্টা শুরু করেছে বিরোধীরা। রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, আপাতত সেই লড়াইয়ে রামপুর কেন্দ্রে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এসপি।

এই কেন্দ্রে এত দিন কার্যত রাজ করেছেন এসপি নেতা আজম খান। ১৯৮০ সাল থেকে ৮ বার এখানে জিতেছেন তিনি। এ বার লোকসভা ভোটে জিতেছেন আজম। তাই ফাঁকা হয়েছে রামপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে দাঁড়িয়েছেন আজম-পত্নী তাজিন ফতিমা। 

রামপুর উত্তরপ্রদেশের একমাত্র জেলা যেখানে মুসলিমদের সংখ্যা (৫১ শতাংশ) হিন্দুদের (৪৬ শতাংশ) থেকে বেশি। বিজেপি বা বিএসপি সাম্প্রতিক অতীতে বহু চেষ্টা করেও এই আসনটি দখল করতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে এক বার অবশ্য কংগ্রেস জিতেছিল। তবে সনিয়া গাঁধীর দল উত্তরপ্রদেশে তো এখন অতীতের ছায়া মাত্র। 

আজমকে চাপে রাখার চেষ্টায় অবশ্য কসুর করছে না বিজেপি। রাজনৈতিক প্রচার তো আছেই, ২০১৭ সালে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে আজম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে ৮৫টি মামলা। অভিযোগের মধ্যে রাহাজানি থেকে ডাকাতি, গরু মোষ পাচারও রয়েছে। বিজেপির দাবি, আইন আইনের পথে চলছে। আর এসপি প্রার্থী তাজিনের অভিযোগ, “শুধু রামপুর নয়, গোটা রাজ্য জানে যে আমাদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলি রুজু করা হয়েছে তা মিথ্যা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি এটাও বলতে চাই যে, এই রাজ্যের আমলাতন্ত্র অভূতপূর্ব জায়গায় নেমে গিয়েছে। বিজেপির এটা মনে রাখা উচিত, আজ যে ভাবে প্রতিহিংসার রাজনীতি, আমলাতন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে তারা বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করছে, এক দিন তাদের বিরুদ্ধেও এই একই অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। ক্ষমতায় রয়েছে বলে বিজেপি এই রাজ্যে যা ইচ্ছা তাই করছে।”

রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, এসপির পক্ষ থেকে তাজিনকে দাঁড় করানোর কারণই হল আজমকে নিয়ে বিতর্ক। আজমের উপর বিজেপির চাপ যত বাড়বে, ততই মুসলিম ভোট ব্যাঙ্কের সহানুভূতি বাড়বে তাঁর প্রতি। ফলে তাজিনকে সামনে রেখে রামপুরে আসলে লড়ছেন সেই আজমই।