• ঈশানদেব চট্টোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

গো-রক্ষার নামে হিংসা ৪১৫০% বাড়ল এই জমানায়!

Lynching
২০১৭ সালে ঝাড়খণ্ডের রামগড়ে পিটিয়ে মারা হয় ৪২ বছরের আলিমুদ্দিনকে।

দৃশ্য ১: শনিবারের হাট থেকে ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে দু’টো দুধেল গাই কিনে বাড়ি ফিরছেন পেহলু খান। ছ’জনে মিলে ফিরছেন জয়পুর থেকে অলওয়ার। রাস্তায় হামলা হল। বৈধ ভাবেই গরু কেনা হয়েছে, নথিপত্র দেখানো সত্ত্বেও থামল না দুষ্কৃতীরা। কারণ গরু যাঁরা কিনেছেন, তাঁরা মুসলিম। গাড়ির চালকের নাম অর্জুন। তাঁকে পালাতে বলল হামলাকারীরা। বাকি পাঁচ জন বেধড়ক মারে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রৌঢ় পেহলু খানের মৃত্যু হল হাসপাতালে।

দৃশ্য ২: এ বারও ঘটনাস্থল রাজস্থান। তবে আক্রান্ত আফরাজুল বাঙালি। মালদহ থেকে রাজসমন্দে গিয়েছিলেন মজুরি খাটতে। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, শম্ভুলাল রেগর নামে এক ব্যক্তি প্রথমে কিছুটা চুপিসাড়ে আফরাজুলের পিছু নিচ্ছে। তার পরে ধারাল অস্ত্রের একের পর এক কোপে ধরাশায়ী করছে তাঁকে। নিথর দেহে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। শেষে মোবাইল ক্যামেরার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিদ্বেষমূলক এবং কট্টরবাদী ভাষণ দিচ্ছে।

দৃশ্য ৩: ঘটনাস্থল পশ্চিমবঙ্গ। হাওড়া থেকে ট্রেন ধরেছিলেন মালদহের জামাল মোমিন। কয়েক জন যুবক ট্রেনে উঠে জানলার ধারের আসনটা থেকে উঠে যেতে বললেন জামালকে। বিস্মিত হয়েছিলেন জামাল। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হল মার। সঙ্গে অকথ্য, অশ্রাব্য গালিগালাজ এবং জামালের ধর্মবিশ্বাসকে কটাক্ষ। এতেই শেষ হয়নি। মারধর-গালিগালাজের ভিডিয়ো রেকর্ডিং হয়েছিল। নির্ভীক ভঙ্গিতে সে ভিডিয়ো ভাইরালও করে দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: কাদাজল ছিটল কেন? প্রৌঢ়কে পিটিয়ে খুন বিহারে

ঘটনা আরও অনেক। গুণে শেষ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। রাজস্থান থেকে বাংলা, হরিয়ানা থেকে কর্নাটক— সর্বত্র একই ছবি। গোরক্ষার নামে একের পর হামলা। সংখ্যালঘুর উপরে, বিশেষত মুসলিমদের উপরে হামলা করাকে বীরত্বের কাজ বলে মনে করা। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অজুহাতে কট্টর সাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠা। বছর চারেক আগেও কিন্তু পরিস্থিতিটা এই রকম ছিল না। ২০১৪ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি দেশের মসনদে বসার পর থেকেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং অসহিষ্ণুতার ঘটনার সংখ্যা যেন লাফিয়ে বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে দেশে গো-রক্ষার নামে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল ২টি। ২০১৪ থেকে ২০১৮, এই সংখ্যা এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৮৫। অর্থাত্ মোদী জমানায় ৪,১৫০ শতাংশ বেড়েছে এমন ঘটনা। তার সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে আর এক বিপদ— গুজবের ভিত্তিতে গণপ্রহার। গত দেড় বছরে শুধু ছেলেধরা গুজবে ৬৯টি হামলা হয়েছে। তাতে মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে আঁচ করাই যায়।

২০১৪ সালে সরকার বদলেছে দেশে। তার পর থেকেই দেশ জুড়ে কট্টরবাদী শক্তিগুলির বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে, প্রকাশ একাধিক সমীক্ষায়। নরেন্দ্র মোদীর সরকার চার বছর কাটিয়ে ফেলেছে মসনদে। এই চার বছরে অসহিষ্ণুতা এবং বিদ্বেষজনিত হিংসার ঘটনা কতগুলি? তার হিসেব তুলে ধরা হয়েছে ইন্ডিয়াস্পেন্ড-এর সমীক্ষায়। নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার আগের চার বছরে পরিস্থিতিটা কেমন ছিল, তুলে ধরা হয়েছে সে হিসেবও। দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে:

গ্রাফিক শৌভিক দেবনাথ। 

এই হিসেব বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৪-র আগে পর্যন্ত দেশে গোরক্ষার নামে হামলার ঘটনা মাত্র ২টি। আক্রান্ত ৪ জন। তবে সে সব হামলায় কারও মৃত্যু হয়নি।

আর ২০১৪ থেকে ২০১৮-র জুলাই পর্যন্ত হামলার সংখ্যা ৮৫। আক্রান্ত হয়েছেন ২৮৫ জন। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৪ জনের।

গোরক্ষার নামে বা ‘হিন্দুত্ব’ রক্ষার নামে কোন রাজ্যে অশান্তি হয়নি, খুঁজে পাওয়া কঠিন। রাজস্থানে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। সেই অলওয়ারেই আবার স্বঘোষিত গোরক্ষকদের গণপ্রহারে গত ২০ জুলাই মৃত্যু হয়েছে রাকবর নামে এক ব্যক্তির। গুজরাতে হামলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রে হয়েছে, কর্নাটক, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ— প্রায় সব রাজ্য থেকে একের পর এক হামলার খবর এসেছে।

আরও পড়ুন: ভরা রেস্তরাঁয় মালিককে পর পর গুলি, ধরা পড়ল ক্যামেরায়

গোরক্ষার নামে উৎপাত পশ্চিমবঙ্গ আগে কখনও সে ভাবে দেখেনি। কিন্তু ২০১৪-র পর থেকে যে নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে দেশে, পশ্চিমবঙ্গও তার বাইরে থাকতে পারেনি। ট্রেনে জামাল মোমিনের আক্রান্ত হওয়া একমাত্র নিদর্শন নয়। বসিরহাট, আসানসোল-সহ নানা এলাকায় সাম্প্রদায়িক হিংসা বুঝিয়ে দিয়েছে, বাংলাতেও কট্টরবাদীদের রমরমা বেড়েছে। গোরক্ষার নামে হত্যার সাক্ষীও হতে হয়েছে বাংলাকে। ২০১৭ সালের অগাস্টে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি থেকে কোচবিহারের তুফানগঞ্জে গরু নিয়ে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হন নুরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন এবং হাফিজুল শেখ। গাড়ির চালক নুরুল পালাতে পেরেছিলেন। বাকি দু’জনের মৃত্যু হয় গণপ্রহারে।

পরিস্থিতির এত দ্রুত অবনতির কারণ কী? কারণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের বড় অংশই একমত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘‘বিজেপি নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা নিয়ে দেশের ক্ষমতায় এসেছে। অনেকগুলো রাজ্যেও বিজেপির সরকার এসে গিয়েছে। এতে কট্টরবাদীরা নতুন উৎসাহ পেয়েছেন। তাঁরা ভাবছেন এখন যা খুশি করা যায়। কেউ কিছু বলার নেই।’’

আরও পড়ুন: ‘এক মরাঠা চলে যাচ্ছে, অন্যরা লড়াই চালিয়ে যাক’, ফেসবুকে লিখে আত্মঘাতী যুবক

সমীক্ষক সংস্থা ইন্ডিয়াস্পেন্ডের তরফে বিশেষজ্ঞ হর্ষ মন্দরের ব্যাখ্যাও অনেকটা একই রকম। তাঁর মতে, প্রথমত কট্টরবাদীরা এখন এই সব হামলা করে শ্লাঘা বোধ করছেন। তাঁরা ভাবছেন, এই সব হামলা বীরত্ব বা পৌরুষের কাজ। দ্বিতীয়ত, হামলাকারীরা বেশ নিশ্চিন্ত এবং নিরাপদ বোধ করছেন। হামলা বা খুনের দৃশ্য ভাইরাল হলেও প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে না— অনেকের মধ্যেই এ রকম একটা বিশ্বাস জন্মে গিয়েছে। তৃতীয়ত, এই সব হামলা এবং তার ভিডিয়োর মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করে দেওয়া যাবে বলে কট্টরবাদীরা মনে করছেন।

 স্বঘোষিত গোরক্ষকদের মার। গত ডিসেম্বরে ঝাড়খণ্ডে। ছবি: সংগৃহীত

কট্টরবাদীদের এই বাড়বাড়ন্তের জন্য কি নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি দোষারোপ করা সম্ভব? কেন্দ্রে তাঁর সরকার আসার পর থেকেই দেশে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ বেড়েছে, সে কথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কি কখনও সমর্থন করেছেন এই হিংসাকে? প্রধানমন্ত্রী তো একাধিক বার এই হিংসার বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছেন। সাবরমতী আশ্রমের শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘‘গো-ভক্তির নামে মানুষ খুন মেনে নেওয়া যায় না।’’ ২০১৭ সালে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগের দিন ফের নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, গোরক্ষার নামে হামলা বরদাস্ত করা হবে না, রাজ্যগুলি এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুক। এর পরেও কি মোদীকে দায়ী করা যাবে?

আরও পড়ুন: নিকা হালালায় নারাজ, মারার হুমকি ফরজ়ানাকে

অধ্যাপক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘‘মোদীকে সরাসরি দায়ী করা কঠিন। এমনকি, আরএসএস-কেও সরাসরি দায়ী করা যায় না। কারণ আরএসএস যে হিন্দুত্বের কথা বলে, তার সঙ্গে এই তথাকথিত গোরক্ষা কর্মসূচির কোনও মিল নেই। আরএসএসেরও গো-সেবা কর্মসূচি রয়েছে। কিন্তু সেই কর্মসূচির নামে হিংসাত্মক আক্রমণ বা হামলা আরএসএস করেছে, এমন নজির নেই। শ্রীরাম সেনা, রাজপুত করণী সেনা— এই সব সংগঠন কিন্তু হামলাগুলো করছে।’’

তা হলে কি বিজেপি বা আরএসএস এই হিংসার জন্য দায়ী নয়? উদয়নের ব্যাখ্যা, ‘‘দায়ী তো বটেই। আসলে একটা প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেওয়া হয়েছে। গোরক্ষার নামে মানুষ খুন করতে হয়তো নরেন্দ্র মোদী বলেননি। কিন্তু কট্টরবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। তাই নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে কট্টরবাদীরা উৎসাহিত হয়েছেন। দেশে এখন তাঁরা যা বলবেন, তেমনই হবে— কট্টরবাদীরা এমনই ভাবতে শুরু করেছেন।’’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আর এক অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী অবশ্য প্রাথমিক দায় নরেন্দ্র মোদীদের উপরেই চাপাতে চান। তাঁর কথায়, ‘‘এই রকম পরিস্থিতি তো হওয়ারই ছিল। যে দলটা দেশ শাসন করছে, কোনও একটি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ যদি সে দল করে, তা হলে এই রকম পরিস্থিতিই তৈরি হয়। শাসক দল যাঁদের পাশে নেই বলে বোঝা যায়, তাঁদের উপরে হামলা বাড়ে।’’

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কতটা আগ্রহী, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের সংশয় রয়েছে। তাঁরা বলছেন, গোরক্ষার নামে হামলা বন্ধ করার দায় রাজ্যগুলির উপরে চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে চেয়েছেন মোদী। কিন্তু রাজ্যগুলিও কট্টরবাদীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার দায় নিজেদের উপরে নিতে চাইছে না। বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি সরকার নীরব থাকছে। কট্টরবাদীদের তারা সরাসরি সমর্থন করছে না ঠিকই। কিন্তু নীরব প্রশ্রয় দিয়ে রাজনৈতিক লাভ ঘরে তুলতে চাইছে।

কী ভাবে মুক্তি মিলবে এই পরিস্থিতি থেকে? অধ্যাপক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘‘প্রশাসনিক পদক্ষেপই সর্বাগ্রে জরুরি। কিন্তু তার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা চাই। সেটা এ দেশে প্রায় কোনও দলের নেই। বিজেপি শুধু নয়, কংগ্রেস বা অন্যান্য দল যে সব রাজ্যে ক্ষমতায়, সে সব রাজ্যেও স্বঘোষিত গোরক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হচ্ছে না। কারণ বিজেপি-র কট্টর হিন্দুত্বের মোকাবিলা করতে গিয়ে কংগ্রেস-সহ অন্য অনেক দলই এখন নরম হিন্দুত্বের লাইন নিয়েছে। তাই কেউই তথাকথিত গোরক্ষকদের চটাতে চায় না।’’

গোরক্ষকদের তাণ্ডবেই অবশ্য শেষ নয় সমস্যার। ছেলেধরা গুজবে পিটিয়ে মারার প্রবণতাও আচমকা হু হু করে ছড়িয়েছে গোটা দেশে। এই ধরনের ঘটনা আগে খুব বেশি ঘটত না। কিন্তু গত দেড় বছরে বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই ধরনের একের পর এক ঘটনার খবর আসতে শুরু করেছে। ২০১৭-র ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮-র ৫ জুলাই পর্যন্ত ছেলেধরা গুজবের শিকার কত জন? দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে:

গ্রাফিক শৌভিক দেবনাথ। 

২০১৮-র মাঝামাঝি এসে কিন্তু এই ধরনের গুজব আরও বেশি করে ছড়িয়েছে। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই দেশের নানা প্রান্তে এ রকম ৯টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাতে ৫ জনের মৃত্যুও হয়েছে।

২০১৭-র আগের বছরগুলোয় চোখ রাখলে কিন্তু এই ছেলেধরা গুজবে গণপ্রহারের ঘটনা অনেক দিন নজরে আসে না। ২০১২-র অগস্টে শেষ বার বিহারের পটনায় এই রকম একটা ঘটনা ঘটেছিল বলে সমীক্ষা থেকে জানা যায়। তা হলে ২০১৭ থেকে আচমকা এই ধরনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ কী?

অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বলছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়া’ এর প্রধান কারণ। তাঁর কথায়: ‘‘আমাদের দেশে প্রশাসন এতটাই অনিরপেক্ষ যে আইনের শাসন প্রায় অবলুপ্ত হতে বসেছে। তাই একাংশ মানুষ ভাবেন, আমরা তো শাসক দলের, আমাদের কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করবে না। আর একটি অংশের লোকজন ভাবেন, পুলিশ-প্রশাসন আমাদের কোনও সুরাহা করবে না, কারণ আমরা বিরোধী দলের। যা করার আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। এই দুই মানসিকতা থেকেই আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আসে।’’

বিশিষ্ট সমাজতত্ত্ববিদ প্রশান্ত রায়ের মতামতও এর সঙ্গে মেলে। প্রেসিডেন্সির প্রাক্তন অধ্যাপক প্রশান্ত রায়ের কথায়, ‘‘ছেলেধরা গুজব নতুন কিছু নয়। এই গুজব বা এই আতঙ্ক বহু বছর ধরেই মানুষকে সহজে নাড়া দেয়। ফলে ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে জনতাকে উত্তেজিত করা সহজ।’’ কিন্তু সে ক্ষেত্রে কেন ২০১৭-র আগের পাঁচ বছরে ছেলেধরা গুজবে গণপ্রহারের ঘটনা সে ভাবে চোখে পড়ে না? কেন আচমকা গত দেড় বছরে বাড়ল এই গুজব ছড়ানোর প্রবণতা? প্রশান্ত রায় বললেন, ‘‘অনেক রকম কারণ থাকতে পারে। সামাজিক পরিসরে বিদ্বেষ বাড়লে এই ধরনের প্রবণতা বাড়তে পারে। একটি গোষ্ঠী হয়তো অন্য একটি গোষ্ঠীকে পছন্দ করে না। ছেলেধরা গুজব রটিয়ে সেই গোষ্ঠীর কাউকে পিটিয়ে মেরে দেওয়া হল। তাতে গোটা গোষ্ঠীটাকে ভয় পাইয়ে দেওয়া গেল।’’ তবে প্রশান্তবাবুর মতে, খুব সহজে এ বিষয়ে কোনও উপসংহারে পৌঁছনো উচিত নয়। বহিঃশক্তিও এর নেপথ্যে থাকতে পারে। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও দেশের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে অন্য কোনও দেশ নানা ভাবে সক্রিয় হয়। ছেলেধরা গুজব বা তার প্রেক্ষিতে গণপ্রহারের প্রবণতার জন্ম দেওয়া সেই ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাও হতে পারে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন