লালকেল্লায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তৃতা দিয়ে বন্দে-মাতরম ধ্বনি তুলে সবে থেমেছেন প্রধানমন্ত্রী। নিয়ম মতো, এর পরেই জাতীয় সঙ্গীত হবে। কিন্তু লম্বা বক্তৃতার পরে সেটি বেমালুম ভুলে গিয়ে জল খেতে শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী! আর তখনই বেজে উঠল জাতীয় সঙ্গীত! কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিষয়টি বুঝতে পেরে হাতের জলের গ্লাসটি তড়িঘড়ি রেখে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটল আর একটু পরেই। লালকেল্লায় মোদীর বক্তৃতার সময় বিজেপি সভাপতির আসনটি ছিল কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীর পাশে। দু’জনকে অবশ্য কথা বলতে দেখা যায়নি। লালকেল্লার অনুষ্ঠানের পরেই অমিত শাহ সোজা চলে যান দিল্লিতে, বিজেপির সদর দফতরে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন তিনি। কিন্তু পতাকা তুলতে গিয়েই বাধল বিপত্তি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি দড়ি টানছেন, আর উপরে ওঠার বদলে জাতীয় পতাকা গড়গড়িয়ে নেমে গেল মাটিতে! উত্তোলনের বদলে জাতীয় পতাকার অবতরণ হল! তার পরে অবশ্য তড়িঘড়ি পতাকা টেনে তুললেন বিজেপি সভাপতি।

ততক্ষণে অবশ্য গোটা ছবি সরাসরি দেখানো হয়ে গেছে দূরদর্শনে। সে সময় ধারাবিবরণী চালাকালীন কাউকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘এ তো বিপর্যয়!’’ সদ্য ক’দিন আগেই জাতীয় সঙ্গীত শুরুর পরেও রাজস্থানের দুই নেতা অশোক গহলৌত আর সচিন পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল রাহুল গাঁধীকে। তা নিয়ে বিস্তর হল্লাও করেছিল বিজেপি। আজ স্বাধীনতা দিবসে মোদী-শাহকে এক সঙ্গে বেকায়দায় পড়তে দেখে কংগ্রেসও ছাড়েনি।

দেখুন ভিডিয়ো

 

কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা মোদীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘মোদীজি, গত ৭০ বছরে এ দেশে আর কোনও প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের অপমান করেননি। এটি একেবারে অপ্রত্যাশিত।’’ আর অমিত শাহের হাত থেকে পতাকা মাটিতে পড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে রণদীপের কটাক্ষ, ‘‘বিজেপি-আরএসএস কোনও দিনই স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেয়নি। বরং ব্রিটিশদের পাশে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল। যাঁরা তেরঙ্গা ওড়াননি, তাঁদের হাতে তো এমন ঘটনা ঘটবেই!’’ বিপাকে পড়ে বিজেপি এখন বলছে, ‘‘কংগ্রেস মোদীজির জল খাওয়াটাই দেখল। কিন্তু জাতীয় সঙ্গীতের সময় যে মোদীজির চোখ থেকে জল পড়েছে, সেটা তো কই বলছে না!’’