‘‘লেডিজ় অ্যান্ড জেন্টেলমেন, ডান দিকের জানলা দিয়ে দেখুন। রকেট পাড়ি দিচ্ছে মহাকাশে। ওহ্‌, দারুণ!’’ মাঝ-আকাশে হঠাৎ পাইলটের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন বিমানের যাত্রীরা।

বঙ্গোপসাগরের উপরে এই দৃশ্যই সোমবার ধরা পড়েছে বিমানচালক ক্যাপ্টেন করুণ করুম্বায়ার চোখে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) সূত্রের খবর, এ দিন সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে উৎপেক্ষণ করা হয় ওই রকেট। যার মূল লক্ষ্য ছিল, একটি ভারতীয় গোয়েন্দা-উপগ্রহকে মহাকাশে স্থাপন করা। একই যাত্রায় ২৮টি বিদেশি উপগ্রহকেও মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। তিনটি যন্ত্র জুড়ে দেওয়া হয়েছে রকেটের মোটরে। ওই রকেট মহাকাশে ভেসে থাকবে এবং গবেষণা ও রেডিয়ো যোগাযোগের কাজে লাগবে। সেটিকেই উড়তে দেখেছেন বিমানচালক এবং যাত্রীরা। 

এই উৎক্ষেপণকে ইসরোর মুকুটে নতুন পালক হিসেবে দেখছেন সংস্থার চেয়ারম্যান কে শিবন। তিনি বলেছেন, ‘‘এই প্রথম পিএসএলভি রকেট দিয়ে তিনটি ভিন্ন কক্ষপথে ২৯টি উপগ্রহ স্থাপন করা হল।’’ এ বছরেই চন্দ্রযান-২ পাঠাবেন এবং আরও কয়েকটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবেন তাঁরা। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

ইসরো জানায়, ‘পিএসএলভি-সি৪৫’ নামক রকেটে চাপিয়ে ৭৪৮ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে যে-কৃত্রিম উপগ্রহকে স্থাপন করা হল, তার নাম ‘এমিস্যাট’। শত্রু পক্ষের রেডারের তথ্য সংগ্রহ করে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে তা সরবরাহ করবে সে। এত দিন বিমানে বসানো রেডার দিয়েই নজরদারি চালানো হত।

এক লহমায়
• নাম: এমিস্যাট।
• নির্মাতা: ডিআরডিও।
• ওজন: ৪৩৬ কিলোগ্রাম।
• বাহন: পিএসএলভি-সি৪৫ রকেট।
• কক্ষপথ: ৭৪৮ কিলোমিটার উঁচুতে।
• কাজ: শত্রু-রেডারের উপরে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি এবং ভারতীয় সেনা, গোয়েন্দাদের ওই রেডারের অবস্থান ও কাজ সম্পর্কে তথ্য প্রেরণ।


‘‘মহাকাশে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চুরমার করেছি। এ বার নিজেদের উপগ্রহ বসালাম কক্ষপথে। এই জোড়া সাফল্যে আমরা অত্যন্ত খুশি,’’ সফল উৎক্ষেপণের পরে বললেন ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র প্রধান জি সতীশ রেড্ডি। গোয়েন্দা-উপগ্রহটির নির্মাতা ডিআরডিও-ই। 

ইসরো জানাচ্ছে, উৎক্ষেপণের ১৭ মিনিটের মধ্যেই এমিস্যাট-কে তার কক্ষপথে পৌঁছে দেয় রকেটটি। মাটিতে থাকা কন্ট্রোল রুমের সদস্যেরা দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির সাহায্যে ইঞ্জিনকে নিয়ন্ত্রণ করে রকেটটিকে ৫০৪ কিলোমিটার উচ্চতায় নামিয়ে আনেন। সেখানে পাঁচ মিনিটের মধ্যে লিথুয়ানিয়া, স্পেন, সুইটজ়ারল্যান্ড ও আমেরিকার ২৮টি উপগ্রহকে কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। ফের ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ করে ৪৮৫ কিলোমিটার উচ্চতায় রকেটের মোটর ভাসিয়ে রাখা হয়েছে। তাতে যুক্ত আছে তিনটি যন্ত্র। একটি যন্ত্র সমুদ্রে জাহাজ ‘ট্র্যাকিং’-এর কাজ করবে। গবেষকদের আয়নোস্ফিয়ার সংক্রান্ত গবেষণার তথ্য জোগাবে দ্বিতীয় যন্ত্রটি। আর তৃতীয় যন্ত্রটি অ্যামেচার রেডিয়ো যোগাযোগ উন্নত করবে। 

গত সপ্তাহে মাটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মহাকাশে উপগ্রহ ধ্বংস করেছে ডিআরডিও। তার ধ্বংসাবশেষ এখনও মহাকাশে ছড়িয়ে আছে। ইসরোর রকেট সেই ধ্বংসাবশেষের টুকরোয় ধাক্কা খেয়ে নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছিল। তবে এ দিন সেই বিপদ হয়নি। ইসরো সূত্রের খবর, প্রতিটি উৎক্ষেপণের আগে থেকেই মহাকাশে ভাসমান বর্জ্যের উপরে নজরদারি চালানো হয়। এ বারেও হয়েছে।