ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে প্রবল উত্তেজনার ফলে কাশ্মীরে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। তাঁদের বিনা খরচে থাকার সুযোগ দিতে দরজা খুলে দিয়েছেন উপত্যকার হোটেল মালিক থেকে সাধারণ মানুষ। 

পুলওয়ামা হামলা ও তার জেরে ভারত-পাক উত্তেজনার ফলে ধাক্কা খেয়েছে কাশ্মীরের পর্যটন। উপরন্তু উপত্যকায় গিয়ে আটকে পড়েছেন অনেকে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, উপত্যকায় আটকে পড়েছেন অন্তত ১৬০ জন পর্যটক। 

হোটেল ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা মুস্তাক আহমেদ ছায়া, মেহবুব মির, মনজুর ওয়াঙ্গুরা এক কথায় জানাচ্ছেন, অতিথিদের কোনওভাবেই বিপাকে ফেলতে রাজি নন তাঁরা। পাশাপাশি ফেসবুকে ওয়ানি বাসিট, ওমর আহমেদ, রুহেলা গুল, আরিফের মতো সাধারণ কাশ্মীরিরাও খুলে দিতে চেয়েছেন দরজা। সেইসঙ্গে দেশজুড়ে কাশ্মীরিদের উপরে হামলার প্রেক্ষিতে কিছু বার্তাও দিতে চেয়েছেন অনেকে। এমবিএ পড়ুয়া ওয়ানি বাসিত ফোনে বললেন, ‘‘কাশ্মীরিদের অনেক জায়গাতেই সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এ বারে গোলমালের জেরে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিপাকে পড়েছেন অনেকে। ভেবেছিলাম নিজের বাড়িতে তাঁদের থাকার সুযোগ দিয়ে হয়তো আম কাশ্মীরি কেমন তা বোঝাতে পারব।’’ তিনি জানালেন, হোটেলে গিয়েও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কেউ আসেননি। ফেসবুকে রুহেলা গুল বলেছেন, ‘‘আমরাও চাই পাকিস্তানে আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন ফিরে আসুন। আমরা শান্তিপ্রিয়। যুদ্ধ, প্রতিশোধ, রক্তপাত নিয়ে আমরা উৎসব করি না।’’ কাশ্মীরিদের এই আচরণে আপ্লুত অনেকেই। পর্যটকদের জন্য ‘হোটেল কাইজার’-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে কেরলের বাসিন্দা জজ়র শাহুল লিখেছেন, ‘‘দারুণ ব্যবহার। যখন আমি কাশ্মীর যাব, তখন আমি নিশ্চয়ই আপনাদের হোটেলে যাব। আমার আশা, আপনাদের ব্যবসা আরও ফুলেফেঁপে উঠুক।’’

উত্তেজনার আরও বেশি মাসুল দিতে হচ্ছে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের। লাম সেক্টরে পোখরনি গ্রামে থাকেন সাখি মহম্মদ। গত কয়েক দিনে বেশ কয়েক বার বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। 

সন্তান আর পরিবারের আরও কয়েক জনকে নিরাপদ এলাকায় পাঠিয়ে দিচ্ছেন তিনি। বললেন, ‘‘প্রতি রাতে মর্টারের শেল পড়ছে। এখনও আমার বাড়িতে পড়েনি। জানি না কখন মারা পড়ব।’’  

  একই অবস্থা পুঞ্চের চৌধরি হুসেন দীন বা আর্নিয়ার সুদেশ কুমারীর। মেন্ধর সেক্টরের এক বাসিন্দা জানালেন, ২০০৩ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি সমঝোতা করায় এলাকায় শান্তি ফিরেছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়।