নরেন্দ্র মোদী সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসের গোড়াতেই  আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চর্তুদেশীয় গোষ্ঠীর বৈঠক সেরেছে ভারত। কিন্তু সেই বৈঠকের পরে চিনকে নিয়ে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’-র রণকৌশল নিয়েছে ভারত।

অর্থাৎ, ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি হওয়া এই চর্তুদেশীয় গোষ্ঠীর বৈঠকে নয়াদিল্লি  শামিল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু চিনের আঁতে লাগে, এমন একটি বাক্যও এখনও পর্যন্ত বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে উচ্চারণ করা হয়নি। সূত্রের বক্তব্য, ভারসাম্যের যে কূটনীতি নিয়ে এগোতে চাইছেন নতুন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর,
এটি তারই সূচনামাত্র। চিনের সঙ্গে আগামী দিনে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে ভারতের। সুর নরম করেই যে তা শুরু করতে চায় ভারত, এই পদক্ষেপে তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

গত শুক্রবার হংকং-এ বসেছিল চর্তুদেশীয় গোষ্ঠীর বৈঠক। পরে ওয়াশিংটন, টোকিয়ো ও ক্যানবেরা প্রায় এক সুরে চিন বিরোধিতায় সামিল হলেও, ভিন্ন পথে হেঁটেছে নয়াদিল্লি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলি তাদের নিজস্ব বিবৃতিতে যা লিখেছে তার নির্যাস, ‘‘আন্তর্জাতিক আইন এবং নৌ ও বিমানযাত্রার স্বাধীনতার উপর বিশ্বের সবার সম্মান দেখানোর ব্যাপারে বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে।’’ কূটনীতির পরিভাষায় এটি এমন একটি বাক্য, যা চিনের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে বারবার প্রয়োগ করেছে জাপান এবং পশ্চিমি দেশগুলি— সময় বিশেষে ভারতও। এই বৈঠকের পরে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ভাবে বলা হয়েছে, ‘‘ওই অঞ্চলে আইনকানুন যাতে বহাল থাকে, সে জন্য চারটি দেশই সম্মত হয়েছে। বিষয়টির প্রতি বিশ্বের সব দেশ যাতে সম্মান দেখায়, সে দিকে নজর দেওয়ার জন্য কথা হয়েছে।’’ জাপান যে বিবৃতি দিয়েছে, তা-ও প্রায় একই রকম।

কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে ‘আন্তর্জাতিক আইন মানা’ কিংবা ‘নৌ বাহিনীর যাতায়াতের স্বাধীনতা’-র মত বিষয়গুলি অনুপস্থিত! সুকৌশলে শুধু বলা হয়েছে, ‘‘খোলামেলা, সমৃদ্ধ এবং সবাইকে একত্রে নিয়ে তৈরি হওয়া ভারত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গঠনের জন্য চারটি দেশই একমত হয়েছে।’’