ভারত মহাসাগরে চিনের বাড়তে থাকা প্রভাব আটকাতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় নৌসেনা। উপকূল সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে নিজের প্রভাব বাড়াতে কেনা হবে ছ’টি অত্যাধুনিক সামরিক ডুবোজাহাজ। ভারতীয় সেনার প্রোজেক্ট-৭৫ প্রকল্পের মাধ্যমেই কেনা হবে এই ছ’টি নতুন সাবমেরিন। এই জন্য বিদেশি সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে ভারতীয় নৌসেনার তরফে।

এই মুহূর্তে মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডকে যে স্করপিন গোত্রের ডুবোজাহাজগুলি বানাচ্ছে ভারত, তার থেকে এই ডুবোজাহাজগুলি আকারে পঞ্চাশ শতাংশ বড়। ভারত যে সাবমেরিন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার ইঞ্জিন হতে হবে ডিজেল-ইলেকট্রিক। সংবাদসংস্থাকে ভারতীয় নৌসেনার তরফে জানানো হয়েছে, ‘‘এই ডুবোজাহাজ তৈরির বরাত দেওয়ার সময় বিদেশি কোম্পানিগুলি কোনও ভারতীয় সংস্থাকে উৎপাদনের অংশীদার করতে চায় কিনা, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।’’

এই ডুবোজাহাজগুলিকে যাতে আরও বেশি অস্ত্রে সজ্জিত করা যায়, তাও বিদেশি অস্ত্র প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে জানিয়ে দিয়েছে ভারতীয় নৌসেনা। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, প্রতিটি ডুবোজাহাজে অন্তত ১২টি অ্যাটাক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে হবে। পাশাপাশি থাকবে বেশ কয়েকটি জাহাজধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও। এ ছাড়া এই সাবমেরিনটিকে আঠারোটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টর্পেডো ছোড়ার মতো শক্তিশালী হতে হবেও বলেও জানিয়েছে ভারতীয় নৌসেনা।

ভারতীয় নৌসেনার চক্র-২ সাবমেরিন। ফাইল চিত্র।

এখন ভারত যে স্করপিন গোত্রের সাবমেরিন বানাচ্ছে, তার থেকে এই ডুবোজাহাজের আগ্নেয়াস্ত্র বহণের ক্ষমতা অনেকটাই বেশি। স্করপিন গোত্রের ডুবোজাহাজগুলি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টর্পেডো এবং ভূমি থেকে ভূমি ক্ষেপণাস্ত্র বহণ করতে পারে।

এই মুহূর্তে ভারতের হাতে আছে মোট ১০০টি সাবমেরিন এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা মাত্র। কিন্তু ভারতের মূল বিপদ চিনের থেকেই। ভারত মহাসাগরে মাঝেমধ্যেই উঁকি দিতে শুরু করেছে চিনা নৌসেনা। মালাক্কা প্রণালী থেকে শুরু করে গোটা ভারত মহাসাগরে নিজেদের উপস্থিতি যে আরও দৃঢ় করতে চাইছে ভারত, তা স্পষ্ট নিজেদের নৌসেনাকে শক্তিশালী করতে ভারতের একের পর এক সিদ্ধান্তেই।