সারা দেশে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে ইন্ডিগোর উড়ানসূচি। মঙ্গলবার বাতিল করতে হয়েছে ৪৭টি উড়ান। গো এয়ারও বাতিল করেছে ১৮টি উড়ান। দুর্ভোগে পড়েছেন বহু যাত্রী। দুই সংস্থাই জানিয়েছে, বাতিল উড়ানের যাত্রীদের অন্য সংস্থার বিমানে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। টিকিট বাতিল করতে চাইলে যাত্রীকে পুরো টাকা ফেরতও দেওয়া হচ্ছে।

সোম ও মঙ্গলবার কলকাতা থেকে শুধু দিল্লিগামী একটি উড়ান বাতিল করেছিল ইন্ডিগো। আজ, বুধবার তারা দিল্লির একটি এবং আগরতলার একটি উড়ান বাতিল করেছে। গো এয়ার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর ও লখনউয়ের উড়ান বাতিল করা হয়েছে। বিমান পরিবহণের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর নির্দেশে ইন্ডিগোর ৮টি এবং গো এয়ারের ৩টি বিমান সোমবারেই বসিয়ে দিতে হয়েছে। আশঙ্কা, ওই ১১টি এয়ারবাস ৩২০ নিও বিমানের ইঞ্জিন যে কোনও দিন গোলমাল করতে পারে।

সোমবার সকালে অমদাবাদ থেকে ইন্ডিগোর একটি যাত্রীবিমান লখনউ রওনা হয়েও ইঞ্জিনের গন্ডগোলে ফিরে যায় অমদাবাদ। সেটিও ছিল ৩২০ নিও বিমান। জানা যায়, এয়ারবাস-এর তৈরি নির্দিষ্ট বেশ কিছু ৩২০ নিও-র বিমানের ইঞ্জিন নিয়ে বিশ্ব জুড়ে অভিযোগ আসছে। এই ইঞ্জিনগুলি ‘প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি’ সংস্থার তৈরি। বলা হচ্ছে, বেশ কিছু বিমানের একটি করে ইঞ্জিন গোলমেলে। যে কোনও দিন সেগুলো বিগড়োতে পারে। তাই যে যে বিমানে ওই ইঞ্জিন রয়েছে, সেগুলি পরীক্ষা করে অথবা ইঞ্জিন বদলে আবার চালানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিজিসিএ।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম যখন ইঞ্জিনের এই সমস্যা দেখা দেয়, তখন যে বিমানের দু’টি ইঞ্জিনই গোলমেলে, ইউরোপে সেই সমস্ত বিমানকে বসিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময়ে ভারতে ইন্ডিগোর তিনটি বিমান বসিয়ে দেওয়া হয়। তখন যে সব বিমানে একটি ইঞ্জিন গোলমেলে, সেগুলি উড়ছিল। কিন্তু এ বার সেগুলিও বসিয়ে দেওয়া হল ভারতে।