রামায়ণে উল্লিখিত স্থানগুলিকে একত্রে জুড়ে একটি বিশেষ রামায়ণ পর্যটন রেল পরিষেবা চালু করতে চলেছে কেন্দ্র। ৮০০ আসনের ওই বিশেষ রামায়ণ ট্রেনের উদ্বোধন হবে ১৪ নভেম্বর।

রেল সূত্রের খবর, দিল্লির সফদরজঙ্গ স্টেশন থেকে ছেড়ে শ্রীরামায়ণ এক্সপ্রেস প্রথমে যাবে অযোধ্যা। তার পর নন্দীগ্রাম, সীতামঢ়ী, জনকপুর, বারাণসী, প্রয়াগ, চিত্রকূট, নাসিক, হাম্পি হয়ে রামেশ্বরম পৌঁছবে।

১৬ দিনের এই ট্যুরে খাওয়াদাওয়া এবং ট্রেন থেকে নেমে রাত্রিবাসের যাবতীয় দায়িত্ব রেলই নেবে। খরচ পড়বে মাথাপিছু ১৫ হাজার ১২০ টাকা।

অযোধ্যাতেই প্রথম স্টপ দেবে শ্রীরামায়ণ এক্সপ্রেস। প্রচলিত বিশ্বাস, এখানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন রামচন্দ্র। সেখান থেকে ট্রেনটি যাবে উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের কাছে নন্দীগ্রাম। কথিত আছে, এই নন্দীগ্রাম থেকেই রামচন্দ্রের পাদুকা নিয়ে ১৪ বছর রাজ্যপাট সামলেছিলেন রামচন্দ্রের ভাই ভরত। নন্দীগ্রাম থেকে ট্রেনটি যাবে উত্তর বিহারে সীতার জন্মস্থান সীতামাঢ়িতে। সেখান থেকে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে জনকপুর। শোনা যায়, এখানেই হরধনু ভঙ্গ করেছিলেন রামচন্দ্র।

জনকপুর থেকে বারাণসী, প্রয়াগ হয়ে ট্রেনটি পর্যটকদের নিয়ে যাবে চিত্রকূট। বলা হয়, লক্ষ্মণ ও সীতার সঙ্গে বনবাসের একটা বড় সময় এখানেই কাটিয়েছিলেন রামচন্দ্র। চিত্রকূট থেকে নাসিক হয়ে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে হাম্পি। এখানেই বানররাজের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন রামচন্দ্র। কিষ্কিন্ধ্যাকাণ্ডে তেমনই উল্লেখ পাওয়া যায়। এখান থেকে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে রামেশ্বরম, যেখান থেকে লঙ্কা অভিযান শুরু করেছিলেন রামচন্দ্র। এতেই শেষ নয়। যাঁরা এর পরেও এগোতে চাইবেন, তাঁদের চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে বিমানে যাবেন তাঁরা শ্রীলঙ্কার  নুয়ারা এলিয়া। বিশ্বাস, এখানেই সীতাকে বন্দি করে রেখেছিলেন লঙ্কার রাজা রাবণ।

আরও পড়ুন: যোনির অঙ্গচ্ছেদ ধর্মীয় কারণেও নয়, মত সুপ্রিম কোর্টের

মন্ত্রক জানিয়েছে, পর্যটকদের থেকে কী রকম সাড়া মিলছে তার উপরে নির্ভর করবে বছরে ক’বার এই টুর হবে। মন্ত্রকের আশা, ভালই সাড়া মিলবে। ধর্মীয় পর্যটনে ভর করে রোজগারও ভাল হবে। বিরোধীরা কেউ কেউ বলছেন, রামায়ণ পর্যটনে ভাল কথাই। শুধু এর মধ্যে মেরুকরণে সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা যেন নিহিত না থাকে। রামমন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যেন জড়িয়ে ফেলা না হয়।

আরও পড়ুন: আলোচনা কম বলেই দুর্নীতি স্বাস্থ্যে: অমর্ত্য