• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নয়া নির্দেশিকায় আপনিও‌ কি চলে আসবেন নজরদারির আওতায় ?

Data Privacy
গ্রাফিক- শৌভিক দেবনাথ।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৯ (১) ধারার মাধ্যমেই ১০ তদন্তকারী সংস্থাকে যে কোনও কম্পিউটারে নজরদারি চালানোর বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ২০০০ সালে তৈরি হওয়া এই আইনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এই নির্দেশিকা দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কম্পিউটার এবং তথ্য সুরক্ষা বিভাগ, যার পরই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। সেই বিতর্কের ঢেউ আছড়ে পড়ে সংসদেও।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই নির্দেশিকার ফলে তদন্তের স্বার্থে এই দশ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যে কোনও কম্পিউটারের তথ্যের উপর নজরদারি চালানোর ক্ষমতা পেল। কম্পিউটার বলতে এখানো বোঝানো হচ্ছে যে কোনও যন্ত্র। অর্থাৎ, ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন, এমনকি যে কোনও হার্ড ডিস্ক বা স্টোরেজ ডিভাইস-ও চলে আসবে নজরদারির আওতায়।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা আছে তদন্তের প্রয়োজনে কম্পিউটারের তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে দিতে বাধ্য কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা, যার মালিকানায় আছে ওই কম্পিউটার বা ডিভাইস। কোনও বাধা দেওয়া হলে কঠোর জরিমানার কথাও বলা আছে নয়া নির্দেশিকায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ভারতের সার্বভৌমত্ব, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত’। কিন্তু সেই তদন্তের প্রয়োজনে ঠিক কোন ধরনের তথ্যের উপর নজরদারি চালানো হবে, তাই নিয়ে এখনও বেশ কিছু ধোঁয়াশা আছে। কোন ধরনের তথ্য দেশের জন্য বিপজ্জনক তাও নির্দিষ্ট ভাবে বলা হয়নি নয়া নির্দেশিকায়। সে ক্ষেত্রে নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহারের একাধিক নিদর্শন আমাদের দেশে আছে। তাই ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তি স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর! অসাংবিধানিক! ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ! নজরদারির অনুমতি দিয়ে বিরোধী তোপে কেন্দ্র

সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের মত, ‘‘তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৯ ধারা নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ধোঁয়াশা আছে। ইতিমধ্যেই কম্পিউটার থেকে উদ্ধার করা তথ্য বিভিন্ন মামলায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে এই দশটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে নতুন করে জুড়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি ঘোরাল হতে পারে, যদি এই আইনের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করার কোনও ঘটনায় যুক্ত হয়ে পড়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।’’

এ ক্ষেত্রে তিনি সামনে এনেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আইনের প্রসঙ্গ। মার্কিন মুলুকে ‘ওয়্যার ট্র্যাপ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে কোনও নাগরিকের তথ্যের ওপর নজরদারি চালানোর ক্ষমতা পেয়ে থাকে সেই দেশের তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু তার জন্য আদালতের থেকে সার্চ ওয়্যারান্ট বা তল্লাশির অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এখানে তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে সেই ক্ষমতা সরাসরি দেওয়া হলে তা অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকতেই পারে বলে জানাচ্ছেন বিভাস চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: যে কোনও কম্পিউটারে চালানো যাবে নজরদারি, নয়া নির্দেশিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

বিরোধীদের সমালোচনার মুখে সরকারের তরফে সংসদে সাফাই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তাঁর মন্তব্য, ‘‘২০ ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে সেই কথাই বলা হয়েছে, যা ২০০৯ সাল থেকে চলে আসছে। অযথা বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করার চেষ্টা হচ্ছে।’’

২০০৯ সালে ইউপিএ আমলেই তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি অংশ যোগ করে কেন্দ্র। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়, ‘কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারও তথ্যের ওপর নজরদারি চালাতে পারবে না কোনও তদন্তকারী সংস্থা। কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও নির্দিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে অনুমতি দেওয়া হলে তবেই তারা কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার ওপর নজরদারি চালাতে পারবে।’ কর্তৃপক্ষ বলতে এখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারকে বোঝানো হয়েছে।

কেন্দ্রের সাফাই, তদন্তের স্বার্থে নজরদারি চালানোর আইনি সংস্থান থাকলেও কোন তদন্তকারী সংস্থা নজরদারি চালাবে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা ছিল না ২০০৯ সালে যুক্ত করা আইনি ধারায়। যে কারণে থেকে যাচ্ছিল ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা। তা দূর করতেই দশটি তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কাজ করেছে বর্তমান এনডিএ সরকার। আসলে ২০০৯ সালের আইনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই পুরো বিষয়টি করা হয়েছে।

(ভোটের খবর, জোটের খবর, নোটের খবর, লুটের খবর- দেশে যা ঘটছে তার সেরা বাছাই পেতে নজর রাখুন আমাদের দেশ বিভাগে।)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন