• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জমি বিলের বিরুদ্ধে সভায় কি দেখা দেবেন রাহুল, জল্পনা তুঙ্গে

rahul gandhi

Advertisement

কী রূপে আত্মপ্রকাশ করবেন তিনি? গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, নাকি রাগি রাগি মুখ? ‘হাতিও টাকা খায়’ বলে একদা মায়াবতীর সরকারের বিরুদ্ধে যে রূপে গুস্সা দেখিয়েছিলেন তিনি! নাকি নিপাট দাড়ি-গোঁফ কামানো নম্র মুখে? লোকসভা নির্বাচনের সময় যে ভাবমূর্তি সামনে রাখতে চেয়েছিলেন, তেমনটা।

এ সব নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসের অন্দরে নিশ্চিত খবর এই যে, দেড় মাস অজ্ঞাতবাসের পর শেষে ফিরছেন রাহুল গাঁধী। সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ২০ এপ্রিল। তার আগের দিন মোদী সরকারের জমি অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে দিল্লিতে কংগ্রেসের কিষান সভার নেতৃত্ব দিতে পারেন রাহুল। রাজনীতিকদের মতে, এই সভার উদ্দেশ্য প্রথমত, সরকারকে চাপে ফেলা। দ্বিতীয়ত, নরেন্দ্র মোদীকে বুঝিয়ে দেওয়া জমি অধ্যাদেশের বিরোধিতায় কংগ্রেস কতটা অনড়।

জমি আইনের সংশোধন নিয়ে কেন্দ্র মিথ্যাচার করছে বলে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক হয়েছেন সনিয়া গাঁধী। কেন্দ্রকে চিঠি লিখে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জমি অধ্যাদেশে তাঁরা সমর্থন জানাবেন না। সেখানেই না থেমে জমি অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে রাজ্য সফরেও বেরিয়েছেন সনিয়া। কংগ্রেস আজ জানিয়েছে, মা এ ভাবে জমি তৈরি করে দেওয়ার পর ছেলে এ বার মাঠে নামবেন।

কিষান সভার দিনক্ষণ স্থির করতে আজ বিকেলে কংগ্রেস সদর দফতরে বৈঠকে বসেন দলের শীর্ষ নেতারা। দিল্লি লাগোয়া রাজ্যগুলি ছাড়াও বৈঠকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতাদেরও ডাকা হয়। ১৯ এপ্রিল রামলীলার মাঠ ছাপিয়ে যাতে ভিন্ রাজ্যের অসন্তুষ্ট কৃষকরা উপচে পড়েন দিল্লির বুকে।

এর মোকাবিলায় পাল্টা কৌশলী বিজেপিও। কেন্দ্রকে সনিয়া যে চিঠি দিয়েছিলেন, আজ তার জবাব দেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। তাঁর অভি়যোগ, ইউপিএ জমানায় নতুন জমি আইন পাশের পর গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এক একর জমিও অধিগ্রহণ করা যায়নি। ফলে কৃষকরা সেচের জন্য জল এবং বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক লড়াইয়েও সক্রিয় কেন্দ্রের মন্ত্রীরা। মোদী মন্ত্রিসভার প্রায় তিন ডজন সদস্য বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে সনিয়ার পাল্টা প্রচার শুরু করেছেন। যেমন অরুণ জেটলি গিয়েছেন রাজস্থানে, রাজনাথ সিংহ মধ্যপ্রদেশে। তাঁদের মূল বক্তব্য, জমি বিলে সরকার কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেছে। কিন্তু বিরোধীরা খামোখা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। অকাল বৃষ্টিরজন্য চাষিদের বাড়তি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করেছেন সনিয়া। তা-ও দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন কেন্দ্রের মন্ত্রীরা।

কিন্তু কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা আজ বলেন, মোদী সরকারের মূল উদ্দেশ্য আসন্ন বাজেট অধিবেশনে যেন তেন প্রকারে জমি অধ্যাদেশ পাশ করানো। এ জন্য বিজু জনতা দল ও জয়ললিতার সঙ্গেও সরকার কথা বলছে। কংগ্রেসও তলে তলে চায় যে সরকার অধ্যাদেশ পাশ করিয়ে নিক। সরকার-বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যেতে তা হলে কংগ্রেসের সুবিধা হবে। তা ছাড়া কোথাও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কৃষক অসন্তোষ শুরু হলে রাহুল বা সনিয়া তাঁদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারবেন।  তাঁর প্রস্তুত্তি হিসেবেই ১৯ এপ্রিলের কিষান সভা।

তবে রাহুল সেখানেই আত্মপ্রকাশ করবেন, নাকি তার আগেই ফিরবেন তা কংগ্রেসের নেতারা আজ জানাতে পারেননি। লোকসভা ভোটের সময় আরএসএসের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করার জন্য মহারাষ্ট্রের একটি আদালত রাহুলকে ৮ মে-র মধ্যে হাজির হতে বলেছে। কংগ্রেসের মুখপাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, আদালতকে জানানো হয়েছে রাহুল গাঁধী দেশের বাইরে রয়েছেন। তাই আদালত ৮ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছে। রাহুল তাঁর আগেই ফিরে এসে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ করবেন।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন