নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে এগোতে ডিজিটাল লেনদেনে একগুচ্ছ ছাড় ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। নোট বাতিলের পর থেকেই ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ নিতে দেশবাসীকে সরকার উৎসাহিত করছিল। কিন্তু তার সুবাদে গত এক মাসে যে ডিজিটাল লেনদেনে জোয়ার এসে গিয়েছে, তেমন ছবি এখনও নেই। তাই অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করলেন, ডিজিটাল লেনদেন করলেই মিলবে এক গুচ্ছ নতুন সুযোগ-সবিধা।

অরুণ জেটলি এ দিন ১১টি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন:

১. দেশে রোজ প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ পেট্রল-ডিজেল কেনেন। কার্ড বা ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে পেট্রল-ডিজেল কেনা হলে এ বার থেকে দামে ০.৭৫ শতাংশ ছাড় মিলবে।

২. কম-বেশি ১০ হাজার মানুষের বাস যে সব গ্রামে, সেই সব এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকার দু’টি করে পয়েন্ট অব সেল তৈরি করবে এবং সেখানে সেলিং মেশিন বা সোয়াইপ মেশিন বসাবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ ভারতের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ কোটি মানুষ ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ পাবেন।

৩. যাঁদের কাছে কিসান কার্ড রয়েছে, নাবার্ড-এর মাধ্যমে তাঁদের রুপে ডেবিট কার্ড দেওয়া হবে। প্রায় ৪ কোটি ৩২ লক্ষ কৃষককে এই সুবিধা দেওয়া হবে।

৪. লোকাল ট্রেনের মাসিক টিকিট বা সিজন টিকিট অনলাইন কেনা হলে ০.৫ শতাংশ ছাড় মিলবে।

৫. অনলাইন রেল টিকিট কিনলে নিখরচায় ১০ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনাজনিত বিমার সুবিধা মিলবে।

৬. রেল টিকিট অনলাইন কাটলে ক্যাটারিং, রিটায়ারিং রুম সহ রেলের বিভিন্ন পরিষেবা ৫ শতাংশ কম খরচে পাওয়া যাবে।

৭. সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা পর্যন্ত কেনাকাটা যদি ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে হয়, তা হলে পরিষেবা কর দিতে হবে না। এত দিন ১৫ শতাংশ হারে এই কর দিতে হত। বৃহস্পতিবার সংসদেই প্রথমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল

৮. বিমা ক্ষেত্রে বড়সড় ছাড়ের ঘোষণা করেছেন জেটলি। কোনও বিমা পলিসি যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থার পোর্টাল ব্যবহার করে কেনা হয় এবং ডিজিটাল মাধ্যমে যদি প্রিমিয়াম জমা দেওয়া হয়, তা হলে সাধারণ বিমার প্রিমিয়ামে ১০ শতাংশ এবং জীবন বিমার প্রিমিয়ামে ৮ শতাংশ ছাড় মিলবে।

৯. সরকারি সংস্থাগুলি কোনও ডিজিটাল লেনদেনের উপর ট্রানজাকশন ফি ধার্য করবে না।

১০. জাতীয় সড়কের টোল প্লাজায় ডিজিটাল মাধ্যমে টোল ট্যাক্স জমা দেওয়া হলে সরাসরি ১০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।

১১. বিভিন্ন ছোটখাট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও যাতে সোয়াইপ মেশিনের ব্যবস্থা রেখে খরিদ্দারকে কার্ডে লেনদেন করতে সাহায্য করতে পারেন, তার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি ন্যূনতম ভাড়ায় সোয়াইপ মেশিন দেবে।

এক মাস আগেই ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে দিয়েছে কেন্দ্র। কালো টাকা আর জাল টাকার রমরমা রোখার পাশাপাশি নগদবিহীন অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়াও এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য, জানানো হয়েছে সরকারের তরফে। কিন্তু তিরিশ দিন পেরিয়ে এসেও খুব বেশি সাড়া মেলেনি ডিজিটাল লেনদেনের পরিসরে। এ বার তাই প্রকারান্তরে পুরস্কার ঘোষণা করল সরকার— ডিজিটাল লেনদেন করলেই ছাড়ের রূপে মিলবে পুরস্কার।