নিজে মুখ না-খুলে রাফাল হামলা মোকাবিলা করাতে সদ্য সুস্থ হয়ে ফেরা অরুণ জেটলিকে নামালেন প্রধানমন্ত্রী। দামের কথা না-তুলে জেটলিও যুক্তির জালে রাহুল গাঁধীকে বিঁধে ছুড়ে দিলেন ১৫টি প্রশ্ন। কিন্তু নাছোড় রাহুলও। ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জেপিসি গড়ার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মোদী-জেটলিকে। পাল্টা নামলেন অমিত শাহও।

রাফাল যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে দুর্নীতি এবং অনিল অম্বানীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে মোদীর বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে প্রচারে নেমেছেন রাহুল। নাজেহাল মোদী এ বার শরণ নিলেন জেটলির। একদা দুঁদে কৌঁসুলি জেটলি প্রথমেই রাহুলকে ‘অজ্ঞ’, ‘শিশুসুলভ’, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র’ ইত্যাদি অ্যাখ্যা দিয়ে দাবি করলেন— ইউপিএ জমানার থেকে সস্তায় কেনা হচ্ছে রাফাল। শুধু বিমান ধরলে ৯ শতাংশ কম, আর আনুষঙ্গিক খরচ ধরলে ২০ শতাংশ। জেটলির দাবি, রাহুল গাঁধী সময়ের সঙ্গে বর্ধিত খরচ আর বিদেশি মুদ্রার বিনিময়টি হিসেবই করেননি। আর অনিল অম্বানীকে ‘অফ-সেট’ বরাত দেওয়ায় সরকারের কোনও হাত নেই। সেটি ফরাসি সংস্থার বিষয়।

রাহুলও ছাড়বার পাত্র নন। সন্ধ্যায়ই টুইট করলেন— ‘মহান রাফাল ডাকাতি নিয়ে দেশের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মিস্টার জেটলিকে ধন্যবাদ। কিন্তু এর নিষ্পত্তি করতে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)-র কী হল? সমস্যা হল, আপনার সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বন্ধুকে বাঁচাচ্ছেন। ফলে অসুবিধা হতে পারে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনি খোঁজ নিয়ে জানান। আমরা অপেক্ষা করছি।’ তার জবাব দিয়ে অমিত শাহও পাল্টা টুইটে খোঁচা দিয়েছেন— ‘এক এক বার রাফালের এক এক রকম দাম বলছেন রাহুল। জেপিসি-র জন্য ২৪ ঘণ্টার অপেক্ষা কেন? তাঁর নিজের জেপিসি— ঝুটি পার্টি কংগ্রেস তো রয়েছেই!’

রাহুল যে ছাড়বেন না, মোদীও জানেন। সকালেই জেটলি বলে রেখেছিলেন, দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করছেন রাহুল, সেটা প্রচার করা হবে। অরুণ শৌরি, যশবন্ত সিন্‌হার মতো বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রীরাও সম্প্রতি রাফাল নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলে জেটলি শৌরিদের ‘কেরিয়ার’ জাতীয়তাবাদী বলে কটাক্ষ করেন। তবু এত কিছুর পরেও রাহুল বিমানের যে বর্ধিত দান নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, তার ইঙ্গিতটুকুও দিলেন না। জানিয়ে দিলেন, রাহুল গাঁধীদের ডেকে ফাইলও দেখাবেন না। 

কারণ? জেটলির কথায়, কংগ্রেস জমানায় প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনায় দুর্নীতি হয়ে এসেছে বলে রাহুল ভাবছেন সেটা এখনও হচ্ছে। খুঁজে না পেয়ে দুর্নীতি ‘তৈরি’ করছেন। অথচ বফর্সে ঘুষের টাকা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আর তৎকালীন শাসক দলের পরিবারের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল। রাফাল দুই সরকারের চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সে গিয়ে ‘প্রাথমিক’ সমঝোতা করার পর ১৪ মাস ধরে দু’দেশের সব নিয়ম পালন হয়। তার পরে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়।

কংগ্রেসের প্রশ্ন, শূন্য অভিজ্ঞতায় অনিল অম্বানী বরাত পেলেন কী করে? মন্ত্রিসভাকে পাশ কাটিয়ে মোদী ‘প্রাথমিক’ সমঝোতাই বা করলেন কী করে? আনন্দ শর্মা বললেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচাতে সওয়াল তো করলেন জেটলি। মোদী চুপ কেন?’’