জনতা দল (ইউনাইটেড)-এ যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই নজরে এল প্রশান্ত কিশোরের ম্যাজিক। পটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব  নেওয়ার পরই ফাটল ধরিয়ে দিলেন এবিভিপির এই দূর্গে।  ২০১২ সালের পর প্রথম বারের জন্য ছাত্রসংসদের সভাপতির পদ দখলে নিল তারা।

শুধু সভাপতি নয়, পটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদে কোষাধ্যক্ষের পদটিও জিতে নিল জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) প্রভাবিত ছাত্র সংগঠন। ২০১২ সালে প্রথম ও শেষ বারের মতো এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাল ফল করেছিল তারা। তার পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জারি ছিল আরএসএস প্রভাবিত ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র দাপট। সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষ পদ হারালেও ভাইস প্রেসিডেন্ট, জেনারেল সেক্রেটারি এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি পদটি নিজেদের দখলে রেখেছে এবিভিপি।

জেডিইউ প্রভাবিত ছাত্র সংগঠনের এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, নীতিশ কুমারের দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথম কোনও দায়িত্ব নিয়েছিলেন ভারতীয় রাজনীতির এই বিখ্যাত নির্বাচন কৌশলী। আর প্রথম পরীক্ষাতেই সাফল্যের সঙ্গে উতরোলেন প্রশান্ত কিশোর। ফলাফল সামনে আসার পর জেডিইউ-এর টুইট, ‘‘ছাত্র রাজনীতিতে বিজেপির নেতৃত্বে যে লুম্পেনরাজ চলছে, তার প্রতিবাদ এই ফলাফল। দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির পক্ষে রায় দিয়েছেন পটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।’’

আরও পড়ুন: ‘বুলন্দশহরে গরু মারল কে, সেটাই বড় প্রশ্ন’, বললেন পুলিশকর্তা

বিজেপি ও এবিভিপি শিবিরের কাছে এই ফলাফল বড় ধাক্কা, কারণ কিছু দিন আগেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল জেডিইউ এবং এবিভিপি সমর্থকেরা। যার জেরে লিখিত বিবৃতিও দেওয়া হয় বিজেপি শিবিরের তরফে। সেখানে বলা হয়েছিল,‘‘ পুলিশ, প্রশাসনের মদতে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের লোকজন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছে। ’’ নাম না করলেও নিশ্চিত ভাবেই এই অভিযোগ ছিল প্রশান্ত কিশোরের দিকেই। তার পরের দিনই প্রশান্ত কিশোরের গাড়িতে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হামলা চালায়। অর্থাৎ, পটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পেকে উঠছিল রাজনৈতিক অশান্তি। এই জয় নিশ্চিত ভাবেই বিহার রাজনীতিতে আরও শক্ত করল প্রশান্ত কিশোরের অবস্থান।

আরও পড়ুন: অযোধ্যায় রামমন্দির হবেই, বললেন উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী

(ভোটের খবর, জোটের খবর, নোটের খবর, লুটের খবর- দেশে যা ঘটছে তার সেরা বাছাই পেতে নজর রাখুন আমাদের দেশ বিভাগে।)