দু’দিন আগে হয়তো এদেরই কোনও সঙ্গী-বন্ধু বা আত্মীয় তীব্র আক্রোশে পাথর ছুড়েছিল এই জওয়ানকে। সোমবারে সকালে সেই জওয়ানের হাতের থালা থেকেই হাসিমুখে লাড্ডু তুলে নিয়ে কামড় দিলেন বাইক আরোহী যুবক।

কার্বাইন কাঁধে জওয়ানের হাতে খুশির ইদের মিষ্টি তুলে দিলেন প্রবীণ কাশ্মীরি। পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে তা দেখছেন অনেকে।

প্রায় এক বছর ধরে চলা একটানা অশান্তির আবহে সোমবার ভূস্বর্গের দিনটা শুরু হয়েছিল এ ভাবেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহও কাশ্মীরিদের প্রতি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘‘আমার বিশ্বাস খুশির ইদ উপত্যকায় শান্তি ও খুশি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।’’

কিন্তু হাসিখুশি ভাবটা বজায় রইল না দিনভর। ইদের দিনেও ঠেকানো গেল না সংঘর্ষ। যার জেরে বহু বছর বাদে ইদের দিনেও আত্মীয়-বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে পারলেন না কাশ্মীরের বহু বাসিন্দা।

প্রায় এক বছর ধরে ক্রমাগত অশান্তিতে ভুগছে ভূস্বর্গ। গত বারও সন্ত্রাসের ছায়ায় কেটেছিল ইদ। তার পর থেকে লাগাতার সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ, বিক্ষোভ, সেনার উপর পাথরবৃষ্টি চলছেই। গত কালও শ্রীনগরে ‘দিল্লি পাবলিক স্কুল’-এর চত্বরে অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গিকে খতম করেছে সেনা। এই পরিস্থিতিতে অন্তত আজ, ইদের দিন সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল প্রশাসন। প্ররোচনা এলেও যথাসম্ভব সংযত থাকতে বলা হয়েছিল বাহিনীকে।

আরও পড়ুন: ভোজে দিল্লি, জুনেইদ-হারা গ্রাম নেই ইদে

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা হলেও স্বাভাবিক করতে এ দিন দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান, পুলওয়ামা, অনন্তনাগ-সহ উপত্যকার একাধিক অশান্ত এলাকায় মিষ্টি বিলির কর্মসূচি নিয়েছিল বাহিনী। কিন্তু তাতেও অশান্তি এড়ানো যায়নি। অনন্তনাগের জঙ্গলত মান্ডি ও আচাজিপোরা এলাকায় ইদের প্রার্থনার পরে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান ওঠে। বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জনতা। তাতে ডেপুটি সুপার আশফাক আলম ও জঙ্গলত মান্ডি পুলিশ পোস্টের প্রধান গৌহর আহমেদ-সহ পাঁচ পুলিশ অফিসার। আহত হয় বহু বিক্ষোভকারীও। পরে সংঘর্ষ ছড়ায় শেরপোরা ও আছাবল আড্ডা়তেও। শ্রীনগর, সোপোর-সহ অন্য অনেক এলাকাতেও ছড়ায় সংঘর্ষ। সোপোরে আহত হয়েছে প্রায় জনা বারো যুবক।

ভূস্বর্গের আগুন উস্কে দিতে একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেছে জঙ্গিদের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড জেহাদ কাউন্সিল। তবে আজ শান্ত ছিল নিয়ন্ত্রণরেখা। পুঞ্চে মিষ্টি বিনিময় করেছে দু’দেশের বাহিনী।