এফএম রেডিও থেকে ভেসে আসে: ‘‘নমস্কার, জোহার, স্বাগতম। শুরু করছি হাতি বিষয়ে বিশেষ বুলেটিন ‘হামারা হাতি হামারা সাথি’। ঝাড়খণ্ডের অধিকাংশ খেত এখন রবি ফসলে ভরে আছে। এই সময় হাতিদের থেকে ফসল বাঁচাতে সাবধান থাকা জরুরি। আজ আমরা জানাব হাতির দল কোন গ্রামের কাছে বিচরণ করছে।’’

হাতি সংক্রান্ত নানা রকম খবর নিয়ে ঝাড়খণ্ড বন দফতরের উদ্যোগে একটি বেসরকারি এফএম চ্যানেলে শুরু হয়েছে এই ‘হাতি-সমাচার’। ঝাড়খণ্ডের প্রিন্সিপাল চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট এল আর সিংহের কথায়, “প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা ও বিকেল সাড়ে চারটেয় হাতিদের অবস্থান ও অন্য তথ্য নিয়ে তিন মিনিটের এই সমাচার থেকে উপকৃত হবেন গ্রামের মানুষ। গত কাল বিকেল থেকেই এই বুলেটিন চালু হয়েছে।’’

 প্রতি বছর ঝাড়খণ্ডের হাতির হামলায় বহু লোক লোক মারা যান। বনকর্তার বক্তব্য, এই বুলেটিন এক দিকে যেমন হাতির অবস্থান সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করবে, তেমনই সতর্কতা বিষয়ে নানা পরামর্শও দেওয়া হবে। আপাতত এই সংবাদ-ভাষ্য হাতি নিয়ে হলেও যদি কখনও অন্য জন্তু সম্পর্কে সচেতন করার প্রয়োজন হয় তবে তাও করা হবে।

চ্যানেল বাছাইয়ের আগে সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে হিন্দি গানের অনুষ্ঠানের জন্য ওই এফএম চ্যানেলটি ঝাড়খণ্ডের গ্রামে খুবই জনপ্রিয়। একই সঙ্গে ‘এলিফ্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করা হয়েছে। সেই গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার ডিএফও-রা রাঁচীর ওয়াইল্ড লাইফ ডিএফও-র কাছে হাতি সংক্রান্ত তথ্য পাঠাবেন। রাঁচীর ডিএফও সব খবর নিয়ে তিন মিনিটের ‘নিউজ বুলেটিন’ তৈরি করবেন। বনকর্তারা জানিয়েছেন, কোনও চোরাশিকারি যদি কোনও জঙ্গলে রয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ হয়, তাও তাঁরা গ্রামবাসীদের জানাবেন। গ্রামবাসীরা সেই চোরাশিকারিকে ধরতে সাহায্য করতে পারবেন। থাকবে একটি হেল্পলাইন নম্বরও। সেখানে গ্রামের মানুষরাও প্রয়োজনে সাহায্য চেয়ে বা তথ্য দিয়ে বন দফতরকে আগাম সর্তক করে দিতে পারবেন।