লালবাতি জ্বালিয়ে, হুটার বাজিয়ে তীব্র গতিতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্স। পথচারীরা দ্রুত পথ ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে অ্যাম্বুল্যান্সে মানুষ নয়, রয়েছে গরু। মাস খানেকের মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের রাস্তায় এই দৃশ্য হামেশাই দেখা যাবে। অসুস্থ বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত গরুকে নিয়ে ছুটবে অ্যাম্বুল্যান্স! ঝাড়খণ্ড সরকারের প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার সিংহ বলেন, ‘‘অসুস্থ বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত গরুকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপাতত ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স কেনা হচ্ছে। ধীরে ধীরে প্রতিটি জেলা শহরেই গরুর জন্য এই  পরিষেবা গড়ে তোলা হবে।’’

এই অ্যাম্বুল্যান্সে গরুকে তোলা হবে হাইড্রোলিক সিস্টেমের মাধ্যমে। অ্যাম্বুল্যান্সের পিছনে থাকবে একটা বড় খাঁচা। সেই খাঁচায় অসুস্থ বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত গরুকে চাপিয়ে হাইড্রোলিক সিস্টেমের মাধ্যমে ওই খাঁচাটি অ্যাম্বুল্যান্সে উঠে যাবে। অ্যাম্বুল্যান্সে একজন পশু চিকিৎসক ও দুই সহকারী থাকবেন বলে ডিরেক্টর দাবি করেছেন। এক একটি অ্যাম্বুল্যান্সের দাম ১৫ লক্ষ টাকা। তিনি জানান, হাতি ও উট বাদে সব পশুকেই এতে বহন করা যেতে পারে।

এই বিশেষ পরিষেবায় খুশি ‘ঝাড়খণ্ড প্রাদেশিক গোশালা সঙ্ঘ’-এর যুগ্ম সম্পাদক প্রমোদ সারস্বত। তিনি বলেন, ‘‘রাস্তা ভাল হয়ে যাওয়ার পরে দ্রুত গতিতে যানবাহন চলছে। ফলে দুর্ঘটনাও বেড়েছে। মানুষের মতো গরুও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। এই ব্যবস্থায় অনেক গরুই হয়তো প্রাণে বেঁচে যাবে!’’ রাজনৈতিক কারণেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহাসচিব সুপ্রিয় ভট্টাচার্য। তবে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। তাঁর কথায়, ‘‘প্রত্যন্ত গ্রামগুলি থেকে অসুস্থ মানুষদের হাসপাতালে নিয়ে আসার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা খুবই খারাপ। হাসপাতালের মাতৃযানগুলিও অনেক সময় খারাপ হয়ে পড়ে থাকে। মানুষের দিকেও সরকার নজর দিক!’’